# আইসিসিবিতে আট সপ্তাহের সংগীত উৎসব, সঙ্গে মোগল খাবারের আয়োজন

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8/
- Published: ২০২৬-১০-৩১T১০:৫৪:১৬+০৬:০০
- Author: শাহিন মোল্লা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর কোলাহলমুখর পরিবেশ থেকে কিছুক্ষণের জন্য ভিন্ন এক আবহে সময়
কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হেরিটেজ
রেস্টুরেন্টে। এখানে একই আয়োজনে মিলেছে মোগল আমলের ঐতিহ্যবাহী খাবার, সুফি সংগীত আর
রাজকীয় পরিবেশনা। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রসনার এই সম্মিলন সংগীতপ্রেমী এবং ভোজনরসিকদের
জন্য তৈরি করেছে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।

গতকাল শুক্রবার রেস্টুরেন্টটিতে শুরু হয়েছে আট সপ্তাহব্যাপী ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল 
নাইট’-এর প্রথম পর্ব। ‘সুফি মিউজিক এডিশন’ শিরোনামে আয়োজিত এই পর্বে রাত ৮টা থেকে ১০টা
পর্যন্ত চলে সংগীত ও খাবারের বিশেষ আয়োজন।

রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতেই অতিথিদের স্বাগত জানায় সুফি সংগীতের মায়াবী সুর। কখনো প্রেম,
কখনো বিরহ, আবার কখনো আত্মিক উপলব্ধির কথা উঠে আসে গানের কথায়। মঞ্চে চলতে থাকে সংগীত
পরিবেশনা, আর টেবিলে একে একে পরিবেশন করা হয় মোগল আমলের রন্ধনশৈলী অনুসরণে তৈরি নানা
পদ। চারপাশের আলো, সাজসজ্জা ও সংগীতের সমন্বয়ে তৈরি হয় এক বিশেষ আবহ।

ছুটির দিনের সন্ধ্যায় কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন এ আয়োজনে। রাজধানীর
ব্যস্ততা ও দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে সময় কাটানোর সুযোগ পান
অতিথিরা। খাবার ও সংগীতের পাশাপাশি পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া।

‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর অন্যতম আকর্ষণ মোগল আমলের খাবার। ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালি
অনুসরণ করে তৈরি এসব খাবারের স্বাদ ও পরিবেশনায় তুলে ধরা হয়েছে মোগল সংস্কৃতির আভিজাত্য।
পরিবেশনকর্মীরাও মোগল আমলের পোশাকে অতিথিদের সামনে খাবার তুলে ধরেন। এতে রেস্টুরেন্টের
সামগ্রিক পরিবেশে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা।

আয়োজকদের ভাষ্য, মোগল খাবারের সঙ্গে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির রয়েছে ঐতিহাসিক যোগসূত্র।
সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সমসাময়িক পরিবেশে উপস্থাপন করাই
এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি অতিথিরা যেন মোগল আমলের
রন্ধনশৈলী, জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া
হয়েছে।

সংগীতের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ই ‘গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল নাইট’-এর মূল আকর্ষণ।
প্রতি সপ্তাহে সংগীতের ভিন্ন ধারা ও পরিবেশনার মাধ্যমে অতিথিদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা
তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।

শুক্রবারের সুফি সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর
পর্যন্ত। আট সপ্তাহের প্রতিটি শুক্রবারে থাকছে সংগীতের আলাদা আয়োজন। সূচি অনুযায়ী, 
আগামী ৬ নভেম্বর পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রসংগীত। ১৩ নভেম্বর থাকবে নব্বইয়ের দশকের হিন্দি
গান এবং ২০ নভেম্বর নজরুলগীতি।

এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর পরিবেশিত হবে কালজয়ী বাংলা গান। ৪ ডিসেম্বর থাকছে পিয়ানো ও কণ্ঠসংগীত,
১১ ডিসেম্বর শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীত এবং ১৮ ডিসেম্বর লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে আট
সপ্তাহের এই আয়োজন।

প্রতি শুক্রবার রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলবে সংগীতের এ আসর। আয়োজকদের প্রত্যাশা,
ঐতিহ্যবাহী খাবার, ভিন্নধর্মী সংগীত পরিবেশনা ও নান্দনিক পরিবেশের সমন্বয়ে ‘গ্র্যান্ড
মিউজিক্যাল নাইট’ অতিথিদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।
