# গাজীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর; যা উঠে আসলো সাংবাদিক ইলিয়াসের অনুসন্ধানে

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%95/
- Published: ২০২৬-১১-০১T০৪:৪৭:১৬+০৬:০০
- Author: ডেক্স নিউজ

শাহজালাল রুমি ওরফে বডি বিল্ডার নামে এক ব্যক্তির হাতে একজন আলেমকে মারধরের ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ঝড়ের গতিতে তা ভাইরাল হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ভিডিওটি সম্পর্কে
জানা যায়, মাদ্রাসাশিক্ষকের দ্বারা বলৎকারের শিকার এক ছেলের বাবা ওই শিক্ষককে শায়েস্তা
করেছেন।

কিছুক্ষণ পর ঘটনার বিবরণ কিছুটা পাল্টে ছড়াতে থাকে। বলা হতে থাকে, ছাত্র নয়, বরং এক
মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির কারণে ওই ছাত্রীর বাবা শিক্ষককে মারধর করেছেন।

মাদ্রাসাকেন্দ্রিক যৌন হয়রানি এবং বলৎকারের ধারাবাহিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষাপটে কোনো 
ধরনের সন্দেহ ছাড়াই মানুষ বিষয়টিকে বিশ্বাস করে নেয়। সারাদেশে মাসলম্যানের পক্ষে জনমত
তৈরি হয় এবং দেশবাসী মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তবে সবার আগে শাহজালাল
রুমির পক্ষে অবস্থান নেয় দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম। কোনো ধরনের অনুসন্ধান ছাড়াই সবাই 
মন্তব্যে পৌঁছে মাদ্রাসাশিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করে সরাসরি রায় দিয়ে দেন।

সেদিনের পুরো ঘটনাচক্রে বেশ কিছু অসংগতি থাকায় বাংলা এডিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে
অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

অনুসন্ধানের শুরুতেই আমরা জানার চেষ্টা করি, সেদিন আসলে টঙ্গীর ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল
মাদ্রাসায় কী ঘটেছিল।

প্রথম ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মাদ্রাসাশিক্ষককে যখন চড় মারা হয়, ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি
ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন। চুমু খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করার পর তিনি চুমু শব্দটি উচ্চারণ 
করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ওপর হামলা শুরু করেন শাহজালাল রুমি ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন
বখাটে।

মাদ্রাসার সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মারধরের পূর্বপরিকল্পনা
নিয়ে দলবলসহ মাদ্রাসায় ঢুকেছিলেন শাহজালাল। তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার চারপাশে
কয়েকজনকে ক্যামেরা হাতে মাসলম্যানের অ্যাকশনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সিসিটিভিতে দেখা যায়, শাহজালাল মাদ্রাসায় প্রবেশের মুহূর্তেই প্রথমে বয়োবৃদ্ধ একজন 
দারোয়ানকে থাপ্পড় মারেন। তাঁর আচরণ দেখে মনে হয়েছে, মাদ্রাসায় যাওয়ার আগেই তিনি এমন
কিছু শুনেছিলেন, যার কারণে মারধরের উদ্দেশ্যেই মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। কিন্তু আসলেই শাহজালালের
মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানতে আমরা প্রথমে শাহজালাল রুমির বক্তব্যই শুনি।

শাহজালাল রুমি তাঁর মেয়ের ব্যাপারে একেক জায়গায় একেক রকম বক্তব্য দিয়েছেন। কোথাও বলেছেন,
শিক্ষক তাঁর মেয়েকে চুমু দিতে চেয়েছেন। আবার কোথাও বলেছেন, মাদ্রাসার শিক্ষক তাঁর মেয়েকে
জড়িয়ে ধরে চুমু দিয়েছেন।

শাহজালাল রুমি ২২ অক্টোবর টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানেও তিনি
প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযোগে শাহজালাল রুমি যে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে টঙ্গীতে থাকেন
না, সেই বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। সুমাইয়া সুলতানা মুক্তাকে নিজের স্ত্রী দাবি করলেও
ঠিকানা লিখেছেন মনোহরদী, নরসিংদী। অথচ তাঁর স্ত্রী মুক্তা থাকেন টঙ্গীতে।

এ ছাড়া অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে টঙ্গী
পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়া শফিউদ্দিন রোডের ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষক
মুসলিম আহমেদ তাঁর মেয়েকে একা পেয়ে জাপটে ধরে গালে একাধিক চুমু দিয়ে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানি
করেন। এ সময় তাঁর মেয়ে কান্নাকাটি করলে অভিযুক্ত শিক্ষক কাউকে বিষয়টি জানালে তাঁর মেয়েকে
মেরে ফেলার হুমকি দেন।

আমরা আসলে সেদিন শাহজালালের মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানতে মাদ্রাসায় থাকা সিসিটিভি
ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করব। তার আগে জানতে চাই, যে শিশুর জন্য শাহজালাল ছুটে এসে
মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর করেছেন, সেই মেয়ের সঙ্গে আসলে শাহজালালের সম্পর্ক কী।

এ বিষয়টি জানতে আমরা প্রথমেই মালিহাদের বাড়িতে যাই। বাড়িতে গিয়ে মালিহার পরিবারের কাউকে
পাওয়া যায়নি।

মালিহার পরিবারের বিষয়ে জানতে বাড়ির কেয়ারটেকারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, মালিহার
মা মুক্তার সঙ্গে শাহজালাল রুমির তালাক হয়েছে। পরে মালিহার মায়ের মামাতো ভাই রুবেলের
সঙ্গে তাঁর আবারও বিয়ে হয়েছে। শাহজালাল মাসে দু-একবার ওই বাসায় গেলেও মালিহার পরিবারের
সঙ্গে তাঁর তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।

একই তথ্য উঠে এসেছে বাংলা এডিশনের কাছে পাঠানো মালিহার এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকেও।

শাহজালাল রুমির প্রথম স্ত্রীর নিকটাত্মীয় পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির পাঠানো চিঠিতে জানা
যায়, শাহজালাল রুমি ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত দুশ্চরিত্র ও লম্পট প্রকৃতির মানুষ। একটি
গার্মেন্টসে চাকরি করতেন তিনি। সেখান থেকে কাপড় চুরির দায়ে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
মালিহার মা অর্থাৎ রুমির প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তালাক হয়েছে আরও তিন বছর আগে। বিভিন্ন
নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে স্ত্রীর পক্ষ থেকেই শাহজালালকে তালাক দেওয়া হয়। 
এরপর শাহজালালের স্ত্রী মুক্তা রুবেল নামে আরেকজনকে দ্বিতীয় বিয়ে করে তাঁর সঙ্গেই সংসার
করছেন।

এলাকায় গিয়ে জানা যায়, শাহজালাল রুমিকে এলাকায় কেউ চেনেন না। সেদিনই প্রথমবারের মতো
তাঁকে দেখেছেন অনেকে। এমনকি যে মাদ্রাসায় মালিহাকে পাঠানো হয়, সেখানেও সেদিনই প্রথমবারের
মতো দেখা গিয়েছিল শাহজালালকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহজালাল এখন দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার নতুন বাজার এলাকায় 
থাকেন। তারপরও ধরে নিলাম, বাবা হিসেবে মালিহার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি মাদ্রাসায়
গিয়ে একজন লম্পট শিক্ষককে শায়েস্তা করে এসেছেন।

কিন্তু মালিহাকে যিনি মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন, তিনি হলেন মালিহার নানা। মাদ্রাসাশিক্ষকের
বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সবার আগে সেটি জানার কথা মালিহার নানার। কিন্তু মালিহার
নানা নিজেই স্বীকার করেছেন, শাহজালাল যা করেছেন, তা অন্যায় করেছেন। মাদ্রাসাশিক্ষকের
বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মালিহার নানা এবং অন্যান্য
অভিভাবকেরা।

মুসলিম আহমেদ নামে যে শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে, তাঁর বিষয়ে মাদ্রাসার প্রতিটি শিক্ষার্থী
ও অভিভাবক একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। সবার দাবি, মুসলিম উদ্দিন কখনো এ ধরনের কাজ করতে
পারেন না।

যেদিন মালিহাকে চুমু খাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে
দেখা যায়, ক্লাস চলাকালে পুরো সময়টাতেই মালিহা স্বাভাবিক ছিল। মাদ্রাসার সিঁড়িসহ কিছু
অংশ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে। এ কারণে শাহজালাল কৌশলে অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে
সিঁড়িতে জড়িয়ে ধরে চুমু দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার দিন ক্লাস শেষে মালিহা যখন নিচে নামছিল, তখন হুজুরের সঙ্গে আরও শিক্ষার্থী এবং
একজন নারী শিক্ষিকাও ছিলেন। অতএব, সিঁড়িতে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার বিষয়টিও ভিত্তিহীন।

মালিহার বাবা শাহজালালের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার তিন দিন আগে বিষয়টি জানার পর তিনি মালিহাকে
মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেন। অথচ ঘটনার দিনও মালিহা এবং তার ছোট ভাই দুজনেই মাদ্রাসায়
ক্লাস করেছে। যদি আসলেই মাদ্রাসাশিক্ষককে নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি থাকত, তাহলে নিশ্চয়ই
মালিহার মা তাকে মাদ্রাসায় পাঠাতেন না। এটাই প্রমাণ করে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে
মালিহার মায়ের কোনো অভিযোগ নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, মালিহার মায়ের যদি কোনো অভিযোগ না থাকে, তাহলে শাহজালাল কার অভিযোগের
ভিত্তিতে দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালালেন?

**পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ**

টঙ্গীর ক্বারিউল কুরআন মাদ্রাসার সেদিনের ঘটনা কোনো সাধারণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং 
গভীর এক চক্রান্তের অংশ। পুরো মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার দীর্ঘদিনের
চেষ্টার ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে। যে কারণে প্রথমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, বলৎকারের
অভিযোগে ওই শিক্ষককে পেটানো হয়েছে। কিন্তু ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর আবার দাবি
করা হয়, ছাত্রীকে যৌন হয়রানির কারণে ওই শিক্ষককে পেটানো হয়েছে।

ঘটনাটি কতটা পূর্বপরিকল্পিত এবং কারা ঘটিয়েছে, তা বুঝতে মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার
কয়েকটি ফুটেজ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

২২ অক্টোবর মাদ্রাসায় প্রবেশের শুরু থেকেই শাহজালালের চারপাশে একাধিক ব্যক্তিকে ক্যামেরা
হাতে প্রস্তুত থাকতে দেখা যায়। প্রবেশের মুখে মাদ্রাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন
বয়স্ক ব্যক্তি তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে প্রথমে তাঁকে পেটানো হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
প্রতিটি মুহূর্তে শাহজালালের লোকজন ভিডিও করতে থাকেন।

এরই মধ্যে শাহজালালের সঙ্গে সেদিন মাদ্রাসায় কারা ছিলেন, সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন
শাহজালাল।

ভক্সে শাহজালাল তিনজন মুসলমানের নাম বলবেন।

শাহজালালের এই বক্তব্য সত্য কি না, তা জানতে আবারও সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে হবে। শাহজালালের
সঙ্গে সেদিন মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন চারজন ব্যক্তি। সময়ের অভাবে তাঁদের
সবার নাম-পরিচয় খুঁজে বের করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে মাদ্রাসার সেদিনের ঘটনা
সবার আগে যার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড করা হয়, সেই প্রোফাইল ঘেঁটে বেশ কয়েকজনকে
চিহ্নিত করা যায়।

অর্থাৎ, শাহজালাল তাঁর হিন্দু বন্ধুদের নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালানোর কথা বললেও মূলত
হিন্দুদের একটি চক্রকে নিয়ে পরিকল্পিত সেই হামলা চালানো হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মারধরের পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে দলবলসহ মাদ্রাসায়
ঢুকেছিলেন শাহজালাল। তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার চারপাশে কয়েকজনকে ক্যামেরা হাতে
মাসলম্যানের অ্যাকশনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সেদিন মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধরের ভিডিও প্রথম সজল রায় নামে একজন হিন্দুর আইডি থেকে ছড়ানো
হয়। তাঁর সেই আইডি ঘেঁটে সেদিনের হামলায় জড়িত আরও অন্তত তিনজনকে চিহ্নিত করা হয়, যাঁরা
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

শাহজালালের এসব হিন্দু বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন সময়ে হিন্দুদের মন্দিরে মন্দিরে
ঘুরে বেড়ানোর কারণে প্রশ্ন উঠেছে, হিন্দুদের কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা
আছে কি না। আর সেই সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছে বাংলাদেশের চিহ্নিত কিছু গণমাধ্যমের আচরণ।

**প্রথম আলোর প্রতিবেদনে মিষ্টির প্যাকেটের দাবি**

প্রথম আলো ২৭ অক্টোবর একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার ওই শিক্ষক
মিষ্টি নিয়ে মালিহাদের বাসায় গিয়েছিলেন।

এবার চলুন, প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দাবি করা মিষ্টির প্যাকেটটি একটু খেয়াল করে দেখা 
যাক।

মিষ্টির প্যাকেট সাধারণত চতুর্ভুজ আকৃতির হয়। কিন্তু স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে, শিক্ষকের
হাতে থাকা বস্তুটি বই-খাতার মতো। ওই শিক্ষকের হাতে সব সময়ই এ রকম একটি ব্যাগ থাকত। 
তারপরও প্রথম আলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যাগটিকে মিষ্টির ব্যাগ হিসেবে উল্লেখ করে 
গুজব ছড়িয়েছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

ওই শিক্ষক কারাগারে থাকলেও তাঁর ব্যবহৃত ব্যাগটি পাওয়া যায় তাঁর সেই মাদ্রাসায়। সেই
ব্যাগ ঘেঁটে দেখা যায়, ভেতরে খাতা, বই এবং ডাস্টার রয়েছে।

এ ছাড়া প্রথম আলোর খবরে দাবি করা হয়েছে, বাসায় যাওয়ার পর ওই শিক্ষককে বাসার ভেতরে ঢুকতে
দেওয়া হয়নি। কিন্তু মালিহাদের বাসার সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি বাসায় 
ঢুকেছিলেন এবং বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেছিলেন।

মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকের তুলনায় মুসলিম আহমেদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের 
সম্পর্ক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। শিক্ষার্থীরা মাঝেমধ্যে ওই শিক্ষকের বাসায় যেতেন, খুনসুটিতে
মাততেন। মাদ্রাসাশিক্ষক তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সময় কাটাতেন। কিন্তু কখনোই তাঁর বিরুদ্ধে
কেউ খারাপ কোনো অভিযোগ করেননি।

**মাদ্রাসাশিক্ষা ও আলেম সমাজের প্রতি বার্তা**

ঘটনা যা-ই হোক, মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে
কারাগারে। এরই মধ্যে সারাদেশের গণমাধ্যম তাঁকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করে ফেলেছে। 
একজনের পাপের কারণে সারাদেশের আলেমদের কটাক্ষ করা হচ্ছে।

টঙ্গীর ঘটনায় এ দেশের আলেম সমাজের জন্য একটি বিশেষ বার্তা রয়েছে। মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থা
ও আলেমদের বিরুদ্ধে যে সম্মিলিত আক্রমণ শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে এ দেশের আলেম সমাজকে আরও
সতর্ক হতে হবে।

নিজের কুপ্রবৃত্তিকে যদি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে ধর্মের লেবাস লাগানোর প্রয়োজন 
নেই। আর ধর্মের লেবাস লাগালে অপকর্ম থেকে বিরত থাকুন। কারণ, আপনাদের দেখে মানুষ ইসলামকে
বিচার করে।

বাংলাদেশের মাদ্রাসায় সমকামিতা ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা যতটা প্রচার করা হয়, পরিস্থিতি
ততটা ভয়াবহ না হলেও এসব ঘটনা একেবারেই ঘটছে না, তা বলা যাবে না। এখন প্রশ্ন হলো, মাদ্রাসায়
এ ধরনের ঘটনা একটিও ঘটবে কেন? মাদ্রাসার আলেমরা সারাদেশে দীনের দাওয়াত দিয়ে নিজের ঘর
যদি অন্ধকার করে রাখেন, তাহলে তাঁদের দাওয়াত কে শুনবে?

এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রতিটি মাদ্রাসায় বিশেষ সেল গঠন করা হোক। প্রয়োজনে প্রতিটি মাদ্রাসায়
অভিযোগ বাক্স রাখা হোক, যেখানে শিক্ষার্থীরা গোপনীয়ভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ জানাতে 
পারবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত হবে, প্রয়োজনে তাদের
গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার মতো কঠোর আইন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ক্ষমতা দিতে হবে।
