# চলমান সংবাদ

তথ্যের সত্যতায় ,আমরা অবিচল।

- Site: https://www.cholomansongbad.com/

## তারুণ্যের ফুটবল উৎসবের সমাপ্তি, শিরোপা জিতল ড্যাফোডিল

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%ac%e0%a6%b2-%e0%a6%89%e0%a7%8e%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8/
- Published: ২০২৬-১১-০৩T২৩:২৩:০১+০৬:০০
- Author: শাহিন মোল্লা

স্পোর্টস রিপোর্টার: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন ও তরুণ খেলোয়াড়দের
উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল এবিজি স্পোর্টস সিটির কিংস অ্যারেনা। জমজমাট ফাইনাল, পুরস্কার
বিতরণী ও বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ 
২০২৬’ ফুটবল টুর্নামেন্ট। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ফাইনালে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল
ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশকে (এআইইউবি) ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ
লড়াই দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত তিন গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ড্যাফোডিল। অন্যদিকে,
ফাইনালে লড়াই করে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় এআইইউবিকে।

ফাইনাল ম্যাচ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল
ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। বিশেষ অতিথি ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির 
পরিচালক মো. ইমরুল হাসান, বিশিষ্ট ফুটবল কলামিস্ট, বিশ্লেষক ও ফুটবল এশিয়ার প্যানেল
লেখক মো. ইকরামুজ্জামান, সাবেক জাতীয় ফুটবলার রুম্মন বিন ওয়ালিদ সাব্বির, বাফুফের নির্বাহী
সদস্য ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার সাঈদ হাসান কানন এবং বাফুফের নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ
সবুজ ও মো. জাকির হোসেন।

এ সময় বসুন্ধরা গ্রুপ ও এবিজি স্পোর্টস সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষক, প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তাদের
উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি
তুলে দেন অতিথিরা। পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য প্রদর্শনকারী খেলোয়াড়দের
বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কৃত করা হয়।

টুর্নামেন্টে পুরস্কারপ্রাপ্তরা:

চ্যাম্পিয়ন: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
 রানার্সআপ: আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল
ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ। ফাইনালের ম্যাচসেরা: ইউনুস আবু বকর, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল
ইউনিভার্সিটি। সর্বোচ্চ গোলদাতা: আক্কাস আলি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-
বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়: ইউনুস আবু বকর, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
সেরা গোলরক্ষক: মেহেদি হাসান, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ। সেরা
ডিফেন্ডার: রাশেদুল ইসলাম, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ। বসুন্ধরা
গ্রুপের উদ্যোগে আনভীরের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বেসরকারি
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রতিভা অন্বেষণ,
তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে
পারস্পরিক বন্ধন ও সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।

বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতার এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের
ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। আয়োজকদের প্রত্যাশা,
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবল চর্চাকে আরও গতিশীল করবে।
একই সঙ্গে এ প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা একসময় জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব
করার সুযোগ পাবেন।

The post [তারুণ্যের ফুটবল উৎসবের সমাপ্তি, শিরোপা জিতল ড্যাফোডিল](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%ac%e0%a6%b2-%e0%a6%89%e0%a7%8e%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).

## উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের টার্গেট বাইন্যান্স, চুরি ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a6%e0%a7%87/
- Published: ২০২৬-১১-০৩T১৩:৪৮:৩৬+০৬:০০
- Author: শাহিন মোল্লা

বিশেষ প্রতিনিধি: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে ভয়াবহ
সাইবার হামলার ঘটনায় ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র
২০ মিনিটের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের
সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়াভিত্তিক কুখ্যাত হ্যাকার গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার
সন্দেহ করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। ইতোমধ্যে চুরি হওয়া অর্থের প্রায় অর্ধেক
জব্দ করা গেলেও বাকি সম্পদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাইন্যান্স।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্সের বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়ালেটে
সাইবার হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী
প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের হিসাব অনুযায়ী, ১০টি ব্লকচেইন থেকে মোট প্রায় ৬৩৬ কোটি 
ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরি হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চুরি হওয়া সম্পদের বড়
অংশই মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে বাইন্যান্সের ধারণা ছিল, প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ
হ্যাক করার মধ্য দিয়ে এই সাইবার হামলার সূচনা হয়। ওই কম্পিউটারে অননুমোদিত প্রবেশের
সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা লেনদেন পরিচালনার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। তবে
পরবর্তী তদন্তে একাধিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় দুর্বলতা ও অনুপ্রবেশের আলামত পাওয়া গেছে
বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে স্পষ্ট হয়েছে, হামলাটি প্রাথমিকভাবে ধারণা করা ঘটনার
চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত ও জটিল ছিল।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেইনঅ্যানালাইসিসের বিশ্লেষণে উত্তর
কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটার’-এর সংশ্লিষ্টতার জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গোষ্ঠীটি ‘লাজারাস গ্রুপ’ নামেও পরিচিত। এর আগে ২০২৫ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ
বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায়ও উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট
হ্যাকারদের দায়ী করা হয়েছিল।

হামলার পরপরই চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে বাইন্যান্স।
প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী
প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে উদ্ধার কার্যক্রম
পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের চুরি হওয়া সম্পদ জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।
পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণে নিজস্ব তহবিল ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি
দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। সংস্থাটি
জানিয়েছে, চুরি হওয়া ডিজিটাল সম্পদের অবস্থান শনাক্ত, সেগুলো জব্দ এবং উদ্ধারে সার্বক্ষণিক
কাজ চলছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার
উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে টেথার ও সার্কেলের মতো শীর্ষস্থানীয় স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী
প্রতিষ্ঠানগুলোও সহযোগিতা করছে। সন্দেহভাজন ডিজিটাল ওয়ালেটে থাকা সম্পদ জব্দ করার ক্ষেত্রেও
তারা ভূমিকা রেখেছে।

বাইন্যান্সে এই বড় ধরনের সাইবার হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি 
বাজারে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিটকয়েনের বাজারমূল্য ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। একই
সময়ে ইথেরিয়াম ও সোলানাসহ অন্যান্য জনপ্রিয় ডিজিটাল মুদ্রার দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা
দেখা দেয়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা বাইন্যান্সের বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটির বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী
রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই এক্সচেঞ্জে
এমন বড় ধরনের সাইবার হামলা ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সামনে
নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল সম্পদ সুরক্ষায় শুধু ওয়ালেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করাই যথেষ্ট নয়; বরং লেনদেন অনুমোদন, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত পুরো প্রযুক্তিগত
অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

The post [উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের টার্গেট বাইন্যান্স, চুরি ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a6%e0%a7%87/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).

## মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%88%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%aa/
- Published: ২০২৬-১১-০৩T১৩:৪৪:৩৬+০৬:০০
- Author: শাহিন মোল্লা

বিশেষ প্রতিনিধি: একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা
শিল্পায়নের ওপর নির্ভর করে না। দেশের মানুষের কর্মক্ষমতা, সামাজিক নিরাপত্তা, নৈতিক
মূল্যবোধ এবং তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশও টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। এসব ক্ষেত্রকে
সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত করছে মাদকের বিস্তার। মাদকাসক্তি ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করার পাশাপাশি
পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। তাই মাদকের
বিরুদ্ধে কার্যকর ও আপসহীন অবস্থান গ্রহণ এখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় অগ্রাধিকার
হওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স
নীতি গ্রহণ করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের এই অবস্থান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে 
রক্ষার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বাংলাদেশকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে 
পারলে উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে।

মাদক ও ধূমপানের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতিবছর ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি
হচ্ছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবের উল্লেখ করা হয়েছে। মাদকের কারণে মানুষের
মধ্যে নানা ধরনের অসুস্থতা বাড়ছে, কমছে কর্মক্ষমতা। বিপুলসংখ্যক মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে
স্বাভাবিক কর্মজীবন থেকে ছিটকে পড়ছেন। এতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয়
উৎপাদনশীলতাও ব্যাহত হচ্ছে। অর্থাৎ মাদক কেবল স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি বাংলাদেশের
অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও বড় প্রতিবন্ধক।

অন্যদিকে অপরাধ বৃদ্ধির পেছনেও মাদকের বড় ভূমিকা রয়েছে। মাদকাসক্তি থেকে অর্থের প্রয়োজন
তৈরি হয়, সেই প্রয়োজন মেটাতে অনেকে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। এর প্রভাব পড়ে সামাজিক নিরাপত্তা
ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদকের বিস্তার তরুণ সমাজের
সম্ভাবনা নষ্ট করছে। যে তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের চালিকাশক্তি
হওয়ার কথা, তাদের একটি অংশ মাদকের কারণে বিপথগামী হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন, আইনের নিরপেক্ষ
প্রয়োগ এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক সিঙ্গাপুরের
প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ মাদককে অপরাধের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে
বিবেচনা করতেন। তাঁর বক্তব্যের মূল দর্শন ছিল, মাদকের বিস্তার রোধ করতে না পারলে নিরাপদ
ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা কঠিন।

সিঙ্গাপুরে মাদক নিয়ন্ত্রণে তাঁর সরকারের কঠোর নীতির প্রতিফলন ঘটে ১৯৭৩ সালে প্রণীত‘
মিসইউস অব ড্রাগস অ্যাক্ট’-এ। এই আইনে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মাদক রাখা ও পাচারের
ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়। আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা সত্ত্বেও লি কুয়ান
ইউ আইনটিকে দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সমর্থন করেন।
দেশটির সেন্ট্রাল নারকোটিকস ব্যুরোকে মাদকবিরোধী অভিযান, তল্লাশি ও নজরদারির ব্যাপক
ক্ষমতা দেওয়া হয়। কঠোর আইন প্রয়োগ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ফলে সিঙ্গাপুর মাদক নিয়ন্ত্রণে
বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায়
এই নীতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সিঙ্গাপুরের মতো আরও কয়েকটি দেশ মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান অনুসরণ করছে। মালয়েশিয়ায়
নির্দিষ্ট ধরনের মাদক পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মাদক রাখা ও সেবনের ক্ষেত্রেও
কারাদণ্ড এবং জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের মাদকসহ আটক করা হলে তাদের 
বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। থাইল্যান্ডেও মাদক পাচারের
গুরুতর অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সৌদি আরবে মাদক পাচারের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া
হতে পারে। কুয়েত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে কঠোর 
শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়াতেও মাদক পাচারের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘদিন ধরে মাদক নিয়ন্ত্রণকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের 
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। ১৯৭১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
রিচার্ড নিক্সন মাদককে দেশের অন্যতম প্রধান শত্রু ঘোষণা করে এর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান
শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে এটি ‘ওয়ার অন ড্রাগস’ বা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে পরিচিতি
পায়। মাদক উৎপাদন, পাচার ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নাগরিকদের নিরাপদ রাখা 
ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী নীতি আন্তর্জাতিক
পর্যায়েও বিস্তৃত হয়। তবে দেশটির এই নীতির কার্যকারিতা ও মানবাধিকারসংক্রান্ত নানা 
দিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মাদকবিরোধী অভিযানও বিশ্বজুড়ে আলোচিত
ও সমালোচিত। দাভাও সিটির মেয়র থাকাকালে তিনি মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ 
করেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও তাঁর এই নীতি অব্যাহত থাকে। ২০২২ সাল পর্যন্ত
তাঁর শাসনামলে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে বহু মানুষ নিহত হন। এসব হত্যাকাণ্ডের বৈধতা
ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। ২০২৫ সালে
তাঁকে গ্রেপ্তার করে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) 
কাছে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ওই আদালতে বিচারের মুখোমুখি। ফিলিপাইনে তাঁর মাদকবিরোধী
অভিযানের প্রতি একাংশের সমর্থন থাকলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এই অভিযানের
গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে আইন ও মানবাধিকার
উপেক্ষা করলে রাষ্ট্রের জন্য নতুন সংকট তৈরি হতে পারে—ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা সে কথাও 
মনে করিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি। দেশে মাদকবিরোধী আইন 
থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এর যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন
এলাকায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পেরেছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত মাদকের সরবরাহ
ও বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিশু-কিশোর, তরুণ ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ মাদকাসক্তির
ঝুঁকিতে পড়ছেন। এর ফলে মানুষের কর্মশক্তি, সৃজনশীলতা ও সামাজিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে।

মাদকাসক্তির সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সম্পর্কও ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। মাদকের অর্থ
জোগাড় করতে গিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হত্যা,
অস্ত্রের ব্যবহার ও চোরাচালানের মতো ঘটনা ঘটছে। নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌন সহিংসতা 
এবং কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রেও মাদকের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে 
যুক্ত অপরাধী চক্রের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র ও মানব পাচারের নেটওয়ার্ক বিস্তারের আশঙ্কাও
রয়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের পেছনে মাদকের সহজলভ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ
উদ্বেগের বিষয়।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বহু অপরাধের সঙ্গে মাদক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
মাদক সরবরাহ ও বিক্রির নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলে অপরাধের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে
কমানো যেতে পারে। তবে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের
উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, সরবরাহ ও খুচরা বিক্রির প্রতিটি স্তরে কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠা
করতে হবে।

অতীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে
মাদক ব্যবসার শক্তিশালী সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভাঙা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার
অভিযোগও বারবার সামনে এসেছে। এমনকি অতীতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের 
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে মাদকবিরোধী
অভিযান অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদক নির্মূলে অগ্রাধিকার
দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ 
এবং দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন,
মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির বিষয়টি নতুন নয়। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট
বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা দাখিলের
জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশনার পর প্রায় তিন হাজার মাদক ব্যবসায়ীর 
একটি তালিকা প্রস্তুত করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তা আদালতে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের বরাতে ২৯২ জন গডফাদার এবং চার হাজার
শীর্ষ মাদক কারবারির তালিকা চূড়ান্ত করার তথ্য সামনে এসেছে। এই তালিকার ভিত্তিতে কার্যকর
ব্যবস্থা নেওয়া হলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও ফলপ্রসূ হতে পারে।

পুলিশের মহাপরিদর্শকও মাদকবিরোধী অভিযানকে পুলিশের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ
করেছেন। এ বিষয়ে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে। তবে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায়
বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো দূর করা জরুরি। কারণ, মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক
আসামি পরবর্তী সময়ে আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। অনেক মামলা
সাক্ষীর অভাব ও প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণের দুর্বলতার কারণে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত পরিণতিতে
পৌঁছাতে পারছে না।

মাদক চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের
বিধান রয়েছে। কিন্তু শুধু কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অপরাধ
প্রমাণের জন্য নির্ভরযোগ্য তদন্ত, পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ, দ্রুত বিচার এবং রায়ের কার্যকর
বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার পেছনে থাকা অর্থের উৎস, প্রভাবশালী
পৃষ্ঠপোষক এবং সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে সফল করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে 
তোলা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন এবং জনপ্রতিনিধিদের
সম্মিলিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতীয় সংসদের সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকাকে
মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেওয়া যেতে পারে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত
করে মাদকবিরোধী সচেতনতা, প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে এর ইতিবাচক
প্রভাব পড়বে।

মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ
নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে মাদক উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী এবং সিন্ডিকেটের
পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের
রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন কোনোভাবেই আইনের প্রয়োগে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়,
তা নিশ্চিত করতে হবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে ডোপ টেস্টের কার্যকর প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ। গাড়িচালকদের জন্য ডোপ টেস্ট
বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ থাকলেও এর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন
করা দরকার। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় 
নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা
যেতে পারে। তবে এসব পরীক্ষার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, যথাযথ প্রক্রিয়া ও পরীক্ষার
নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মাদক ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ করা। 
অতীতে দেখা গেছে, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নতুন রাজনৈতিক
বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অপরাধীরা আরও শক্তিশালী
হয়ে ওঠে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা 
নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সব রাজনৈতিক দলকে মাদক ব্যবসায়ী, চোরাচালানি
ও মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদারদের আশ্রয় না দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে
মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই মাদকবিরোধী অভিযানকে সাময়িক কর্মসূচি হিসেবে
দেখার সুযোগ নেই। এটি হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার। কঠোর আইন প্রয়োগ, নিরপেক্ষ
বিচার, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক সচেতনতা এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের সমন্বিত উদ্যোগই
পারে এই সংকট মোকাবিলা করতে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান একটি
বড় পরীক্ষা। এই যুদ্ধে সফল হতে পারলে শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণই নয়, দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে
সুরক্ষা দেওয়া, অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার পথও সুগম 
হবে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দেশের অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে।
কারণ, মাদকের বিরুদ্ধে জয় মানেই একটি সুস্থ, নিরাপদ, কর্মক্ষম ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার
পথে বড় বিজয়।

The post [মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%95-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%88%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%aa/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).

## হকারদের পুনর্বাসনেই হতে পারে শপিং মলের সংকটের সমাধান

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%b9%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%b9%e0%a6%a4%e0%a7%87/
- Published: ২০২৬-১১-০২T১১:৩৭:১৫+০৬:০০
- Author: শাহিন মোল্লা

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একসময় জমজমাট ছিল অভিজাত ও মাঝারি শ্রেণির
শপিং মলগুলো। কেনাকাটার জন্য এসব বিপণিবিতানে ক্রেতাদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু সময়ের
সঙ্গে পাল্টেছে কেনাকাটার ধরন, বদলেছে ক্রেতাদের পছন্দ ও সামর্থ্য। বিশেষ করে ফুটপাতজুড়ে
গড়ে ওঠা সস্তার দোকানপাটের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না অনেক শপিং মল।
ক্রেতার অভাবে কোথাও দোকান বন্ধ হচ্ছে, কোথাও ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে ফুটপাত দখল করে পরিচালিত এসব অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসার কারণে একদিকে যেমন সরকার
বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নগরজীবনে বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। এই পরিস্থিতিতে
হকারদের উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের নিবন্ধন, নির্দিষ্ট ব্যবসাস্থল ও নিয়মিত তদারকির আওতায়
আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর কাকরাইলের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
গত শতাব্দীর শেষ দিকে চালু হওয়া এই বিপণিবিতান একসময় ছিল মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের
পছন্দের জায়গা। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, গয়না থেকে শুরু করে নানা ধরনের পণ্য কিনতে এখানে
ক্রেতাদের সমাগম ঘটত। কিন্তু ক্রমাগত ক্রেতা কমতে থাকায় ব্যবসায়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে
বিপণিবিতানটি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গত ১ অক্টোবর দোকান মালিকরা সম্মিলিতভাবে
এটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৯৮ সালে কর্ণফুলী গ্রুপের নির্মাণ করা ২০ তলা ভবনের বেজমেন্ট ও চারটি তলা নিয়ে যাত্রা
শুরু করেছিল কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি। ভবনের অন্য তলাগুলোতে রয়েছে আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট।
বিপণিবিতানটিতে ছিল ১৯৮টি দোকান, যার মালিকানা কিনেছিলেন ১২৫ জন ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন
ধরে লোকসান গুনতে গুনতে শেষ পর্যন্ত দোকান বন্ধের পাশাপাশি নিজেদের মালিকানা বিক্রি
করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির মতো পরিস্থিতি রাজধানীর আরও কয়েকটি শপিং মলে দেখা যাচ্ছে। একসময়
অভিজাত হিসেবে পরিচিত ইস্টার্ন প্লাজাও এখন আগের জৌলুশ হারিয়ে রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ইস্টার্ন মল্লিকা, পুলিশ প্লাজা, রাপা প্লাজা, সীমান্ত স্কয়ার, হোসাফ টাওয়ার, মৌচাক
মার্কেট, মিরপুরের শাহ আলী মার্কেট ও সেঞ্চুরি অর্কেডেও ক্রেতার উপস্থিতি আগের তুলনায়
অনেক কম। এসব বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখে রয়েছেন। পরিস্থিতির
উন্নতি না হলে তাঁদের অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারেন।

মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করেই এসব শপিং মল গড়ে
উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ক্রেতাদের একটি বড় অংশ কেনাকাটার জন্য বেছে নিচ্ছেন ফুটপাতের
দোকান। কারণ, শপিং মলের কাছাকাছি মানের অনেক পণ্য ফুটপাতেই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া
যায়। ফলে ক্রেতারা কম খরচে কেনাকাটার সুযোগ নিতে ফুটপাতমুখী হচ্ছেন।

তবে শপিং মল ও ফুটপাতের ব্যবসার ব্যয়ের কাঠামো এক নয়। শপিং মলের দোকানিদের দোকানভাড়া,
বিদ্যুৎ বিল, ভ্যাট, করসহ নানা ধরনের ব্যয় বহন করতে হয়। অন্যদিকে ফুটপাতের অধিকাংশ 
হকারকে এসব ব্যয় নিয়মিতভাবে দিতে হয় না। ফলে তাঁদের পণ্যের দাম তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব
হয়। কিন্তু এই কম দামের পেছনে রয়েছে আরেকটি বড় সমস্যা। অধিকাংশ ফুটপাতের দোকানের নেই
বৈধ নিবন্ধন, নেই যথাযথ তদারকি কিংবা জবাবদিহি। নিম্নমানের পণ্য বিক্রি এবং ক্রেতাদের
সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।

ক্রেতারা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে পণ্য কিনে কিছুটা সাশ্রয় করতে পারলেও এর সামগ্রিক অর্থনৈতিক
প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিবন্ধনহীন ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পণ্য বিক্রি 
হলেও সেখান থেকে সরকার যথাযথ রাজস্ব পাচ্ছে না। ফলে ভ্যাট ও আয়করের মতো খাত থেকে রাষ্ট্র
বঞ্চিত হচ্ছে। এই রাজস্ব ঘাটতির প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর পড়ে।
অর্থাৎ কম দামে কেনাকাটার সুবিধা থাকলেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসার কারণে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির
ক্ষতি হচ্ছে।

ফুটপাত দখল করে হকারি ব্যবসা পরিচালনার পেছনে রয়েছে একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা। অনেক
ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল এবং আইনশৃঙ্খলা 
রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত
অর্থ আদায়ের মাধ্যমে এসব অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে হকারদের ব্যবসা
চললেও এর বিনিময়ে সরকার কোনো রাজস্ব পায় না। বরং সাধারণ মানুষকে এর মূল্য দিতে হয়।

ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ হারাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে 
তাঁদের মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এতে যানবাহন ও পথচারীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি
হচ্ছে, বাড়ছে যানজট। যানজটের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও 
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট বসানোর কারণে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট
হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
হকারদের একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলের অধিকার 
ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মিরপুর, উত্তরা ও নিউমার্কেট 
এলাকার ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের কার্যক্রম
পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায় ঢাকা
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। উচ্ছেদের পর পুনরায় যাতে সেখানে দোকান বসানো না যায়,
সে জন্য ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। অন্যদিকে মিরপুর-
১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের পর দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের
যানজট ও হকারদের জটলা কমে যাওয়ায় পথচারীরা এখন তুলনামূলক স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছেন।

এ ধরনের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর ফুটপাতগুলো পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত
রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি যানজট কমানো, নগরের পরিবেশ উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের 
দুর্ভোগ লাঘবেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা 
করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনার আলোকে এখন তাঁদের 
ফুটপাত থেকে সরিয়ে বিকল্প ব্যবসাস্থল তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, শুধু উচ্ছেদ
করে হকারদের জীবিকার পথ বন্ধ করে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাঁদের কর্মসংস্থানের
বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

অতীতে বিভিন্ন সময়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হলেও কয়েক দিনের মধ্যে আবার
হকারদের ফিরে আসার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা কিংবা প্রভাবশালী
মহলের হস্তক্ষেপে অনেক এলাকায় আগের পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। এবার যাতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি
না ঘটে, সে জন্য সিটি করপোরেশন বিকল্প ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন(
ডিএনসিসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থানে তাঁদের নিয়মিত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া
হতে পারে। শুধু সপ্তাহে দুই দিন হলিডে মার্কেটে বসার সুযোগ দিলে অনেক হকারের পক্ষে 
সংসার চালানো কঠিন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট এলাকায় প্রতিদিন ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও
বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সময়সূচি হিসেবে বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনার
কথা ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজনে এসব স্থানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হতে পারে।

তবে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। হকারদের কাছ থেকে
কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী, স্থানীয় প্রভাবশালী কিংবা অন্য কোনো পক্ষ যেন অবৈধভাবে চাঁদা
আদায় করতে না পারে। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের কাছ থেকে যৌক্তিক
ফি বা সার্ভিস চার্জ নেওয়া যেতে পারে। এর মাধ্যমে হকারদের ব্যবসার জন্য একটি বৈধ পরিবেশ
তৈরি হবে এবং তাঁদের আয়ের একটি অংশ সরকারি রাজস্ব হিসেবেও জমা পড়বে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে হকারের সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। শুধু ঢাকা শহরেই এ সংখ্যা
প্রায় চার লাখ। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার হকার বিভিন্ন সমিতির সদস্য। বাকি
প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার ভ্রাম্যমাণভাবে ব্যবসা করেন। তবে বেসরকারি বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী,
সারা দেশে হকারের প্রকৃত সংখ্যা ২০ লাখের কম নয়। সংখ্যার এই পার্থক্য থেকেই বোঝা যায়,
হকারদের একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তালিকা তৈরি করা কতটা জরুরি।

হকারদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হলে তাঁদের প্রকৃত সংখ্যা, ব্যবসার ধরন ও কর্মস্থল সম্পর্কে
সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে নির্ধারিত নিবন্ধন ফি ও নিয়মিত সার্ভিস
চার্জ আদায় করা সম্ভব হবে। বর্তমানে হকারদের কাছ থেকে বিভিন্ন মহল যে অর্থ আদায় করে,
তার বড় অংশই সরকারি কোষাগারে জমা হয় না। একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে সেই
অর্থের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় রাজস্বে যুক্ত করা সম্ভব।

নিবন্ধিত হকারদের জন্য পরিচয়পত্র, নির্দিষ্ট ব্যবসাস্থল, সময়সূচি ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের
ব্যবস্থা থাকতে পারে। এতে তাঁদের ব্যবসার বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থও
সুরক্ষিত হবে। পণ্যের মান নিয়ে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট হকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া
সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শপিং মলের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হকারদের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেও 
একটি ভারসাম্য তৈরি হবে। কারণ, তখন উভয় পক্ষকেই নির্দিষ্ট নিয়ম ও আর্থিক দায়বদ্ধতার
মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ফুটপাতের হকারদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা ছিল। তবে পরিকল্পিত
ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক দেশই এই সমস্যাকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ দিয়েছে। যুক্তরাজ্য,
সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। এসব দেশে হকারদের পুরোপুরি
উচ্ছেদ না করে তাঁদের নিবন্ধন, নির্দিষ্ট স্থান ও সময়সূচির আওতায় এনে ব্যবসা পরিচালনার
সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে একসময় ফুটপাতের হকারদের কারণে যানজট, পথচারীদের
ভোগান্তি ও পর্যটন খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। অনেক হকার স্থানীয় প্রভাবশালী ও সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিদের অর্থ দিয়ে যেখানে-সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। নিবন্ধন না থাকায় তাঁদের
পরিচয় শনাক্ত করা কিংবা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন ছিল।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ প্রথমে হকারদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এরপর
নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে তাঁদের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। নিবন্ধিত হকারদের জন্য নির্দিষ্ট
এলাকা, দোকান বসানোর স্থান ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে মাসিক
সরকারি ফি আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ফি ছিল ১০০ বাথ, যা পরবর্তী
সময়ে বাড়িয়ে দেড় হাজার বাথ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।

এই ব্যবস্থার ফলে হকারদের ব্যবসা একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আসে। একই সঙ্গে 
ফুটপাতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় পথচারীদের চলাচল ও যানবাহন ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়।
বর্তমানে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্ট্রিট মার্কেট ও স্ট্রিট ফুড কেন্দ্র পর্যটকদের আকর্ষণের
অন্যতম জায়গা। সিঙ্গাপুরেও পরিকল্পিত নাইট মার্কেট ও হকার সেন্টার পর্যটন এবং স্থানীয়
অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।

এসব অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, হকারদের জীবিকা ও নগরের শৃঙ্খলা পরস্পরবিরোধী বিষয় নয়। সঠিক
পরিকল্পনা থাকলে দুটিই নিশ্চিত করা সম্ভব। বরং অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা
পরিচালনার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ম মেনে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করা গেলে হকাররাই
উপকৃত হবেন।

বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করতে হলে প্রথমেই একটি জাতীয় পর্যায়ের হকার নীতিমালা
প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এর আওতায় সারা দেশের হকারদের নিবন্ধন, পরিচয়পত্র প্রদান, ব্যবসার
ধরন অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস এবং নির্দিষ্ট কর্মস্থল নির্ধারণ করতে হবে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন
এলাকায় উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে হকারদের জন্য বাজার বা নির্ধারিত ব্যবসাস্থল
গড়ে তোলা যেতে পারে।

নিবন্ধন ফি হিসেবে এককালীন এক হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
পাশাপাশি ব্যবসার স্থান ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী মাসিক বা দৈনিক সার্ভিস চার্জ নেওয়া
সম্ভব। তবে এই অর্থ আদায়ের বিনিময়ে হকারদের নিরাপত্তা, ব্যবসার নিশ্চয়তা এবং চাঁদাবাজিমুক্ত
পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব
হবে অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ করা এবং নির্ধারিত নিয়মের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ
ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের বাইরে ফুটপাত
বা সড়কে দোকান বসানো বন্ধ করতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ করলে সতর্কতা, জরিমানা এবং প্রয়োজনে 
নিবন্ধন বাতিলের মতো ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব
যেন কোনোভাবেই নিয়ম বাস্তবায়নে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

হকারদের উচ্ছেদ করাই সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়; তাঁদের একটি নিয়মতান্ত্রিক ও বৈধ কর্মসংস্থানের
আওতায় নিয়ে আসাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। এতে একদিকে পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহারের অধিকার
নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে হকারদের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে। সরকার পাবে নতুন রাজস্বের উৎস,
কমবে অবৈধ চাঁদাবাজি এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির মতো বিপণিবিতানগুলোও অনিয়ন্ত্রিত ও অসম প্রতিযোগিতার
চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। কারণ, শপিং মলের ব্যবসায়ীরা যেমন ভাড়া, কর ও অন্যান্য
ব্যয় বহন করেন, তেমনি হকারদের ব্যবসাও তখন নির্ধারিত ফি, নিয়ম ও জবাবদিহির আওতায় পরিচালিত
হবে।

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং হকারদের পুনর্বাসন—দুটিকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা
করতে হবে। কেবল উচ্ছেদ অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্বচ্ছ নিবন্ধন, নিয়মিত তদারকি
এবং চাঁদাবাজি বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই এ উদ্যোগ সফল হবে। এতে 
নগরের সৌন্দর্য ও চলাচলের পরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি হকারদের কর্মসংস্থান, শপিং মলের
ব্যবসা এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।

The post [হকারদের পুনর্বাসনেই হতে পারে শপিং মলের সংকটের সমাধান](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%b9%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%b9%e0%a6%a4%e0%a7%87/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).

## ‘মজলুম থেকে জালিম; আবার মজলুম হলে গণমাধ্যমের কাছেই বলবেন বাঁচান’

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%ae-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%b2/
- Published: ২০২৬-১১-০১T২১:০৭:৪১+০৬:০০
- Author: ডেক্স নিউজ

মজলুম থেকে জালিম হয়ে ওঠা উনিই হয়তো আবার মজলুম হলে এই সংবাদ মাধ্যমকেই আর্তচিৎকার
করে বলবেন আমাকে বাঁচান! আমাকে বাঁচান।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর
রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর
দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ লেখেন, “মজলুম থেকে জালিম হয়ে ওঠা উনিই হয়তো আবার মজলুম হলে এই
সংবাদ মাধ্যমকেই আর্তচিৎকার করে বলবেন আমাকে বাঁচান! আমাকে বাঁচান।”

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসে
রাশেদ খানের ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে’ শিরোনামে পরিচিত ফেসবুক লাইভ ভিডিওটি।
ওই দিন দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বরের ভাষানটেক বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে ফেসবুক
লাইভে এসে তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে ধাওয়া করছে এবং বাসার দরজায় 
ধাক্কা দিচ্ছে।

লাইভে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, আমাকে বাঁচান।’ পরে ওই দিনই কোটা
সংস্কার আন্দোলনের এই যুগ্ম আহ্বায়ককে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ছাত্রলীগের তৎকালীন
কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় তাকে
গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

The post [‘মজলুম থেকে জালিম; আবার মজলুম হলে গণমাধ্যমের কাছেই বলবেন বাঁচান’](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%ae-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%b2/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).

## ভিডিও ভাইরালকে কেন্দ্র করে শিবচরে জামায়াত নেতার বসতঘর ভাঙচুর

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%95/
- Published: ২০২৬-১১-০১T১৯:২৮:৪৩+০৬:০০
- Author: ডেক্স নিউজ

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর 
ভিডিওকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের শিবচরে তাইজুল ইসলাম নামে এক জামায়াত নেতার বসতঘর
ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে
উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে 
জানা গেছে, কয়েকশ নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে তাইজুল ইসলামের বসতঘরে ভাঙচুর চালান। তাইজুল
ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিলখী ইউনিয়ন শাখার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সম্প্রতি তাঁকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর 
এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে রোববার সকালে তাঁর বসতঘরে হামলা
ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামী শিবচর উপজেলা শাখার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে নিলখী ইউনিয়ন
শাখার সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত
হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর স্ত্রী বলে নিজের
ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন তাইজুল ইসলাম। বসতঘর ভাঙচুরের
ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে শিবচর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি
বলেন, “খবর পেয়ে নিলখী পুলিশ ফাঁড়ির টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

The post [ভিডিও ভাইরালকে কেন্দ্র করে শিবচরে জামায়াত নেতার বসতঘর ভাঙচুর](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%ad%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%93-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%95/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).

## আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/
- Published: ২০২৬-১১-০১T১৩:০২:৪২+০৬:০০
- Author: শাহিন মোল্লা

স্টাফ রিপোর্টার: জাপানের জনপ্রিয় রিকন্ডিশন্ড গাড়ির সমাহার নিয়ে রাজধানীর আন্তর্জাতিক
কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘বারভিডা কার এক্সপো
২০২৬’। আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে একই ছাদের নিচে বিভিন্ন
ব্র্যান্ড ও মডেলের গাড়ি দেখার পাশাপাশি দাম ও সুযোগ-সুবিধা তুলনা করে পছন্দের গাড়ি
কেনার সুযোগ পাবেন ক্রেতারা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস
ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের অটোমোবাইল খাতকে আরও গতিশীল করা এবং রিকন্ডিশন্ড গাড়ির
বাজার সম্পর্কে ক্রেতাদের ধারণা বাড়ানো এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে জাপান
থেকে আমদানি করা জনপ্রিয় গাড়িগুলো এক জায়গায় প্রদর্শনের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতাদের
জন্য গাড়ি নির্বাচন ও কেনার প্রক্রিয়া সহজ করাই এ এক্সপোর লক্ষ্য।

এক্সপোতে টয়োটা প্রিয়াস, করোলা ক্রস, হ্যারিয়ার, নোয়া, ভক্সি ও আলফার্ডসহ জাপানের বিভিন্ন
জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও মডেলের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি প্রদর্শন করা হবে।

প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা সরাসরি গাড়ি দেখার পাশাপাশি মডেল অনুযায়ী এর প্রযুক্তি,
বৈশিষ্ট্য, সুযোগ-সুবিধা ও দাম সম্পর্কে জানতে পারবেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়ি একই
স্থানে থাকায় ক্রেতারা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলক যাচাইয়ের মাধ্যমে
সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

গাড়ি কেনাবেচায় স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে
সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬-এর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির ৫০ বছরের
ইতিহাস নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী।

এতে দেশের সড়কে জাপানি গাড়ির যাত্রা শুরুর সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত অটোমোবাইল প্রযুক্তির
পরিবর্তন ও বিকাশের চিত্র তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ের জনপ্রিয় জাপানি গাড়ির
ছবি, ঐতিহাসিক মডেল এবং প্রযুক্তিগত বিবর্তনের নানা দিক দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন
করা হবে।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে জাপানি গাড়ির দীর্ঘদিনের অবদানও তুলে ধরা হবে। 
নির্ভরযোগ্যতা ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত পুরোনো দিনের গাড়ি থেকে আধুনিক হাইব্রিড
ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর মডেলে পৌঁছানোর ধারাবাহিকতা বিশেষভাবে স্থান পাবে।

আয়োজকদের মতে, জাপানি গাড়ি দেশের পরিবহন খাতের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ব্যবসা-
বাণিজ্য এবং সরকারি রাজস্ব আয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

বারভিডার মতে, অটোমোবাইল খাত কেবল গাড়ি আমদানি ও বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক
সম্পর্কের বিষয়গুলোও সরাসরি যুক্ত।

এ প্রেক্ষাপটে এক্সপোর মাধ্যমে দেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারকে আরও জনপ্রিয় ও গতিশীল
করা, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন মডেলের গাড়ি সম্পর্কে
সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ তৈরি করতে চায় সংগঠনটি।

এ ছাড়া জাপানি গাড়ির গুণগত মান, নির্ভরযোগ্যতা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা
বৃদ্ধি, বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির পাঁচ দশকের অবদান তুলে ধরা এবং দেশের অর্থনীতি ও রাজস্ব
আয়ে এ খাতের ভূমিকা তুলে ধরাও আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বারভিডা কার এক্সপো ২০২৬ পরিদর্শনে গাড়িপ্রেমী, সম্ভাব্য ক্রেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী,
পরিবার, গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আয়োজক সংগঠনটি।

যারা গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, বিভিন্ন মডেলের বৈশিষ্ট্য ও দাম যাচাই করতে চান কিংবা
আধুনিক হাইব্রিড প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশে জাপানি গাড়ির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী,
তাদের জন্য এ প্রদর্শনী বিশেষ সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করছে বারভিডা।

৫ থেকে ৭ নভেম্বর আইসিসিবিতে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে দর্শনার্থীরা একই স্থানে বিভিন্ন
মডেলের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ঘুরে দেখার এবং নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী গাড়ি নির্বাচনের
সুযোগ পাবেন।

The post [আইসিসিবিতে তিন দিনের কার এক্সপো, থাকছে আধুনিক হাইব্রিড গাড়িও](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).

## ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%82%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%b2/
- Published: ২০২৬-১১-০১T০৯:১৪:২৭+০৬:০০
- Author: শাহিন মোল্লা

বিশেষ প্রতিনিধি: একসময় রাজধানীর শপিংমলগুলো ছিল কেনাকাটার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। 
উৎসব-পার্বণ কিংবা সাধারণ দিন—সব সময়ই এসব বিপণিবিতানে থাকত ক্রেতাদের ভিড়। দোকানগুলোতে
চলত বেচাকেনার ব্যস্ততা। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টে গেছে সেই চিত্র। এখন অনেক বিপণিবিতানে
ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় দোকান খোলা
রেখেও মিলছে না প্রত্যাশিত বিক্রি। কোনো কোনো দোকানে দুপুর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয় না
দিনের বেচাকেনা।

রাজধানীর রাপা প্লাজা, ইস্ট প্লাজা, প্লাজা এয়ার, অর্কিড পয়েন্টসহ বেশ কয়েকটি পরিচিত
শপিংমল এখন ক্রেতাসংকট ও ব্যবসায়িক মন্দার মুখে। দীর্ঘদিনের লোকসান, পরিচালন ব্যয় এবং
ক্রেতাদের কেনাকাটার ধরনে পরিবর্তনের কারণে এসব বিপণিবিতানের ব্যবসা ক্রমেই সংকুচিত
হচ্ছে। এরই মধ্যে শান্তিনগরের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা
আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ী। একদিকে পুঁজি আটকে যাচ্ছে,
অন্যদিকে দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
অনেকের কাছে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর প্রচলিত শপিংমলগুলোর এই সংকটের পেছনে একক কোনো কারণ নেই।
প্রযুক্তির বিস্তার, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, বাজারব্যবস্থার পরিবর্তন এবং ব্যবসা
পরিচালনার উচ্চ ব্যয়—সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে বর্তমান পরিস্থিতি।

শপিংমলগুলোতে ক্রেতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ অনলাইন কেনাকাটার বিস্তার। এখন ঘরে বসেই
ফেসবুক পেজ, বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস থেকে পছন্দের পণ্য কেনা
যাচ্ছে। অর্ডার করা পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতার বাসায়। ফলে সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনাকাটার
প্রয়োজন অনেকটাই কমে এসেছে।

বিশেষ করে তরুণ ক্রেতাদের একটি বড় অংশ অনলাইননির্ভর হয়ে পড়েছেন। অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ীদের
অনেকের বড় শোরুমের ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল কিংবা বিপুলসংখ্যক কর্মচারীর বেতন দিতে হয় না।
ফলে তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয়ে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় প্রচলিত
শপিংমলগুলোর ব্যবসায়ীরা পিছিয়ে পড়ছেন।

শপিংমলের ব্যবসায় মন্দার আরেকটি কারণ ফুটপাতকেন্দ্রিক কেনাকাটা। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের
ফুটপাত ও অস্থায়ী বাজারে তুলনামূলক কম দামে পোশাক, জুতা, ব্যাগ ও প্রসাধনসামগ্রী পাওয়া
যায়। একই ধরনের পণ্য শপিংমলের তুলনায় কম দামে কেনার সুযোগ থাকায় সীমিত ও মধ্যম আয়ের
ক্রেতাদের অনেকেই ফুটপাতের বাজারে ঝুঁকছেন।

বিশেষ করে দৈনন্দিন ব্যবহার্য ও ফ্যাশনসামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছে এসব বাজারের
আকর্ষণ বাড়ছে। এতে বিপণিবিতানগুলোর নিয়মিত ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবও খুচরা ব্যবসায় পড়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল এবং যাতায়াত ব্যয় মেটাতেই 
সাধারণ মানুষের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে পোশাক, প্রসাধনসামগ্রী কিংবা শখের
পণ্য কেনার মতো অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে দিয়েছেন অনেকেই।

বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো এখন প্রয়োজনের বাইরে কেনাকাটায় আগের মতো
অর্থ ব্যয় করতে পারছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শপিংমলগুলোর বিক্রিতে।

বেচাকেনা কমলেও দোকান পরিচালনার ব্যয় কমেনি। অভিজাত বিপণিবিতানগুলোতে দোকানভাড়া, সার্ভিস
চার্জ, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জেনারেটর, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন নিয়মিত
পরিশোধ করতে হয়। বিক্রি কমে যাওয়ায় এসব ব্যয় বহন করা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান সামাল দিতে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আয় কমে গেলেও নির্ধারিত
ব্যয় বহাল থাকায় ধীরে ধীরে পুঁজি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ব্যবসা
বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প থাকছে না অনেকের।

রাজধানীর শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়ে ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করা কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি 
একসময় ছিল পরিচিত ও জমজমাট বিপণিবিতান। তবে দীর্ঘদিনের ক্রেতাসংকট, লোকসান এবং বকেয়া
বিলের চাপ সামলাতে না পেরে গত ১ অক্টোবর থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

একসময় প্রাণচঞ্চল এই বিপণিবিতানের বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজধানীর অন্যান্য শপিংমলের ব্যবসায়ীদের
মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে এটি শুধু একটি বিপণিবিতান বন্ধ হওয়ার 
ঘটনা নয়, বরং প্রচলিত খুচরা বাণিজ্যব্যবস্থার সংকটের একটি বড় সতর্কসংকেত।

দীর্ঘদিনের লোকসানে অনেক ব্যবসায়ীর সঞ্চিত পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। ব্যবসা চালু রাখতে ব্যাংক,
আত্মীয়স্বজন কিংবা ব্যক্তিগতভাবে ঋণ নিতে হয়েছে অনেককে। কোনো কোনো দোকানে বিপুল পরিমাণ
পণ্য মজুত থাকলেও সেগুলো বিক্রি করে নগদ অর্থের সংস্থান করা যাচ্ছে না। ফলে ঋণ পরিশোধের
চাপ আরও বাড়ছে।

ব্যবসার আয় বন্ধ বা কমে যাওয়ায় পরিবার পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের
অনেকের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস দোকান। বেচাকেনা কমে যাওয়ায় বাসাভাড়া, সন্তানদের
শিক্ষার ব্যয়, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

শপিংমলকেন্দ্রিক ব্যবসায় মন্দার প্রভাব পড়েছে কর্মচারীদের ওপরও। বিক্রি কমে যাওয়ায় 
অনেক দোকানমালিক কর্মচারীর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ায় কর্মহীন
হয়ে পড়েছেন বিক্রয়কর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীরা। এতে শুধু ব্যবসায়ী নয়, খুচরা বাণিজ্য
খাতের সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর প্রচলিত শপিংমলগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ব্যবসায়ী, মার্কেট কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক ও
সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী
কিছু পদক্ষেপ নেওয়া গেলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

প্রথমত, বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিবেচনায় দোকানভাড়া ও সার্ভিস চার্জ পুনর্নির্ধারণ
করা জরুরি। মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও দোকান মালিক সমিতি আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া, এসি, জেনারেটর
এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারে। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর 
আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।

দ্বিতীয়ত, প্রচলিত ব্যবসার পাশাপাশি অনলাইন বিক্রির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শপিংমলের
দোকানগুলোর জন্য যৌথ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট কিংবা মোবাইল অ্যাপ চালু করা যেতে
পারে। এতে দোকানে না এসেও ক্রেতারা পণ্য দেখতে ও অর্ডার করতে পারবেন। অনলাইন ও সরাসরি
বিক্রির সমন্বয়ে নতুন ক্রেতা তৈরির সুযোগও বাড়বে।

তৃতীয়ত, শপিংমলগুলোকে শুধু কেনাকাটার জায়গা হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে বিনোদন ও পারিবারিক
সময় কাটানোর উপযোগী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। ফুডকোর্ট, শিশুদের বিনোদনকেন্দ্র, ফ্যামিলি
এন্টারটেইনমেন্ট জোন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থা করা হলে মানুষের আগ্রহ বাড়তে 
পারে। বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা যেতে পারে আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান।

চতুর্থত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক প্রণোদনা চালু করা
প্রয়োজন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করলে ব্যবসায়ীরা
চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ পরিশোধে
বিশেষ সুবিধাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

পঞ্চমত, ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনতে কার্যকর বিপণন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন উৎসব, মৌসুমি
বিক্রি ও বিশেষ দিবস উপলক্ষে সম্মিলিত ছাড়, বিশেষ মূল্যছাড়, ক্যাম্পেইন ও পুরস্কারভিত্তিক
প্রচারণা চালানো যেতে পারে। এতে শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের আগ্রহ ও উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ
তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর শপিংমলগুলোর বর্তমান সংকট কেবল বেচাকেনা কমে যাওয়ার বিষয় নয়; এর
সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবন-জীবিকা। অনলাইন
বাণিজ্যের বিস্তার, মূল্যস্ফীতি এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত অভ্যাসের সঙ্গে তাল মেলাতে
না পারলে প্রচলিত বিপণিবিতানগুলোর অস্তিত্ব আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই ব্যবসা পরিচালনার
ব্যয় কমানো, ডিজিটাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং ক্রেতাদের জন্য নতুন আকর্ষণ তৈরির পাশাপাশি
প্রয়োজন নীতিগত সহায়তা। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে একসময় রাজধানীর পরিচিত ও জমজমাট
অনেক শপিংমলই হয়তো বাণিজ্যিক গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে।

The post [ক্রেতাশূন্য ঢাকার শপিংমল, লোকসানে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%82%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%b2/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).

## গাজীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর; যা উঠে আসলো সাংবাদিক ইলিয়াসের অনুসন্ধানে

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%95/
- Published: ২০২৬-১১-০১T০৪:৪৭:১৬+০৬:০০
- Author: ডেক্স নিউজ

শাহজালাল রুমি ওরফে বডি বিল্ডার নামে এক ব্যক্তির হাতে একজন আলেমকে মারধরের ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ঝড়ের গতিতে তা ভাইরাল হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ভিডিওটি সম্পর্কে
জানা যায়, মাদ্রাসাশিক্ষকের দ্বারা বলৎকারের শিকার এক ছেলের বাবা ওই শিক্ষককে শায়েস্তা
করেছেন।

কিছুক্ষণ পর ঘটনার বিবরণ কিছুটা পাল্টে ছড়াতে থাকে। বলা হতে থাকে, ছাত্র নয়, বরং এক
মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির কারণে ওই ছাত্রীর বাবা শিক্ষককে মারধর করেছেন।

মাদ্রাসাকেন্দ্রিক যৌন হয়রানি এবং বলৎকারের ধারাবাহিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষাপটে কোনো 
ধরনের সন্দেহ ছাড়াই মানুষ বিষয়টিকে বিশ্বাস করে নেয়। সারাদেশে মাসলম্যানের পক্ষে জনমত
তৈরি হয় এবং দেশবাসী মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তবে সবার আগে শাহজালাল
রুমির পক্ষে অবস্থান নেয় দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম। কোনো ধরনের অনুসন্ধান ছাড়াই সবাই 
মন্তব্যে পৌঁছে মাদ্রাসাশিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করে সরাসরি রায় দিয়ে দেন।

সেদিনের পুরো ঘটনাচক্রে বেশ কিছু অসংগতি থাকায় বাংলা এডিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে
অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

অনুসন্ধানের শুরুতেই আমরা জানার চেষ্টা করি, সেদিন আসলে টঙ্গীর ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল
মাদ্রাসায় কী ঘটেছিল।

প্রথম ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মাদ্রাসাশিক্ষককে যখন চড় মারা হয়, ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি
ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন। চুমু খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করার পর তিনি চুমু শব্দটি উচ্চারণ 
করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ওপর হামলা শুরু করেন শাহজালাল রুমি ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন
বখাটে।

মাদ্রাসার সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মারধরের পূর্বপরিকল্পনা
নিয়ে দলবলসহ মাদ্রাসায় ঢুকেছিলেন শাহজালাল। তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার চারপাশে
কয়েকজনকে ক্যামেরা হাতে মাসলম্যানের অ্যাকশনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সিসিটিভিতে দেখা যায়, শাহজালাল মাদ্রাসায় প্রবেশের মুহূর্তেই প্রথমে বয়োবৃদ্ধ একজন 
দারোয়ানকে থাপ্পড় মারেন। তাঁর আচরণ দেখে মনে হয়েছে, মাদ্রাসায় যাওয়ার আগেই তিনি এমন
কিছু শুনেছিলেন, যার কারণে মারধরের উদ্দেশ্যেই মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। কিন্তু আসলেই শাহজালালের
মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানতে আমরা প্রথমে শাহজালাল রুমির বক্তব্যই শুনি।

শাহজালাল রুমি তাঁর মেয়ের ব্যাপারে একেক জায়গায় একেক রকম বক্তব্য দিয়েছেন। কোথাও বলেছেন,
শিক্ষক তাঁর মেয়েকে চুমু দিতে চেয়েছেন। আবার কোথাও বলেছেন, মাদ্রাসার শিক্ষক তাঁর মেয়েকে
জড়িয়ে ধরে চুমু দিয়েছেন।

শাহজালাল রুমি ২২ অক্টোবর টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানেও তিনি
প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযোগে শাহজালাল রুমি যে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে টঙ্গীতে থাকেন
না, সেই বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। সুমাইয়া সুলতানা মুক্তাকে নিজের স্ত্রী দাবি করলেও
ঠিকানা লিখেছেন মনোহরদী, নরসিংদী। অথচ তাঁর স্ত্রী মুক্তা থাকেন টঙ্গীতে।

এ ছাড়া অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে টঙ্গী
পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়া শফিউদ্দিন রোডের ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষক
মুসলিম আহমেদ তাঁর মেয়েকে একা পেয়ে জাপটে ধরে গালে একাধিক চুমু দিয়ে যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানি
করেন। এ সময় তাঁর মেয়ে কান্নাকাটি করলে অভিযুক্ত শিক্ষক কাউকে বিষয়টি জানালে তাঁর মেয়েকে
মেরে ফেলার হুমকি দেন।

আমরা আসলে সেদিন শাহজালালের মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা জানতে মাদ্রাসায় থাকা সিসিটিভি
ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করব। তার আগে জানতে চাই, যে শিশুর জন্য শাহজালাল ছুটে এসে
মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর করেছেন, সেই মেয়ের সঙ্গে আসলে শাহজালালের সম্পর্ক কী।

এ বিষয়টি জানতে আমরা প্রথমেই মালিহাদের বাড়িতে যাই। বাড়িতে গিয়ে মালিহার পরিবারের কাউকে
পাওয়া যায়নি।

মালিহার পরিবারের বিষয়ে জানতে বাড়ির কেয়ারটেকারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, মালিহার
মা মুক্তার সঙ্গে শাহজালাল রুমির তালাক হয়েছে। পরে মালিহার মায়ের মামাতো ভাই রুবেলের
সঙ্গে তাঁর আবারও বিয়ে হয়েছে। শাহজালাল মাসে দু-একবার ওই বাসায় গেলেও মালিহার পরিবারের
সঙ্গে তাঁর তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।

একই তথ্য উঠে এসেছে বাংলা এডিশনের কাছে পাঠানো মালিহার এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকেও।

শাহজালাল রুমির প্রথম স্ত্রীর নিকটাত্মীয় পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির পাঠানো চিঠিতে জানা
যায়, শাহজালাল রুমি ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত দুশ্চরিত্র ও লম্পট প্রকৃতির মানুষ। একটি
গার্মেন্টসে চাকরি করতেন তিনি। সেখান থেকে কাপড় চুরির দায়ে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
মালিহার মা অর্থাৎ রুমির প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তালাক হয়েছে আরও তিন বছর আগে। বিভিন্ন
নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে স্ত্রীর পক্ষ থেকেই শাহজালালকে তালাক দেওয়া হয়। 
এরপর শাহজালালের স্ত্রী মুক্তা রুবেল নামে আরেকজনকে দ্বিতীয় বিয়ে করে তাঁর সঙ্গেই সংসার
করছেন।

এলাকায় গিয়ে জানা যায়, শাহজালাল রুমিকে এলাকায় কেউ চেনেন না। সেদিনই প্রথমবারের মতো
তাঁকে দেখেছেন অনেকে। এমনকি যে মাদ্রাসায় মালিহাকে পাঠানো হয়, সেখানেও সেদিনই প্রথমবারের
মতো দেখা গিয়েছিল শাহজালালকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহজালাল এখন দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার নতুন বাজার এলাকায় 
থাকেন। তারপরও ধরে নিলাম, বাবা হিসেবে মালিহার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি মাদ্রাসায়
গিয়ে একজন লম্পট শিক্ষককে শায়েস্তা করে এসেছেন।

কিন্তু মালিহাকে যিনি মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন, তিনি হলেন মালিহার নানা। মাদ্রাসাশিক্ষকের
বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সবার আগে সেটি জানার কথা মালিহার নানার। কিন্তু মালিহার
নানা নিজেই স্বীকার করেছেন, শাহজালাল যা করেছেন, তা অন্যায় করেছেন। মাদ্রাসাশিক্ষকের
বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মালিহার নানা এবং অন্যান্য
অভিভাবকেরা।

মুসলিম আহমেদ নামে যে শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে, তাঁর বিষয়ে মাদ্রাসার প্রতিটি শিক্ষার্থী
ও অভিভাবক একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। সবার দাবি, মুসলিম উদ্দিন কখনো এ ধরনের কাজ করতে
পারেন না।

যেদিন মালিহাকে চুমু খাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে
দেখা যায়, ক্লাস চলাকালে পুরো সময়টাতেই মালিহা স্বাভাবিক ছিল। মাদ্রাসার সিঁড়িসহ কিছু
অংশ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে। এ কারণে শাহজালাল কৌশলে অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে
সিঁড়িতে জড়িয়ে ধরে চুমু দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার দিন ক্লাস শেষে মালিহা যখন নিচে নামছিল, তখন হুজুরের সঙ্গে আরও শিক্ষার্থী এবং
একজন নারী শিক্ষিকাও ছিলেন। অতএব, সিঁড়িতে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার বিষয়টিও ভিত্তিহীন।

মালিহার বাবা শাহজালালের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার তিন দিন আগে বিষয়টি জানার পর তিনি মালিহাকে
মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেন। অথচ ঘটনার দিনও মালিহা এবং তার ছোট ভাই দুজনেই মাদ্রাসায়
ক্লাস করেছে। যদি আসলেই মাদ্রাসাশিক্ষককে নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি থাকত, তাহলে নিশ্চয়ই
মালিহার মা তাকে মাদ্রাসায় পাঠাতেন না। এটাই প্রমাণ করে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে
মালিহার মায়ের কোনো অভিযোগ নেই।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, মালিহার মায়ের যদি কোনো অভিযোগ না থাকে, তাহলে শাহজালাল কার অভিযোগের
ভিত্তিতে দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালালেন?

**পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ**

টঙ্গীর ক্বারিউল কুরআন মাদ্রাসার সেদিনের ঘটনা কোনো সাধারণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং 
গভীর এক চক্রান্তের অংশ। পুরো মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার দীর্ঘদিনের
চেষ্টার ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে। যে কারণে প্রথমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, বলৎকারের
অভিযোগে ওই শিক্ষককে পেটানো হয়েছে। কিন্তু ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর আবার দাবি
করা হয়, ছাত্রীকে যৌন হয়রানির কারণে ওই শিক্ষককে পেটানো হয়েছে।

ঘটনাটি কতটা পূর্বপরিকল্পিত এবং কারা ঘটিয়েছে, তা বুঝতে মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার
কয়েকটি ফুটেজ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

২২ অক্টোবর মাদ্রাসায় প্রবেশের শুরু থেকেই শাহজালালের চারপাশে একাধিক ব্যক্তিকে ক্যামেরা
হাতে প্রস্তুত থাকতে দেখা যায়। প্রবেশের মুখে মাদ্রাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন
বয়স্ক ব্যক্তি তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে প্রথমে তাঁকে পেটানো হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত
প্রতিটি মুহূর্তে শাহজালালের লোকজন ভিডিও করতে থাকেন।

এরই মধ্যে শাহজালালের সঙ্গে সেদিন মাদ্রাসায় কারা ছিলেন, সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন
শাহজালাল।

ভক্সে শাহজালাল তিনজন মুসলমানের নাম বলবেন।

শাহজালালের এই বক্তব্য সত্য কি না, তা জানতে আবারও সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে হবে। শাহজালালের
সঙ্গে সেদিন মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন চারজন ব্যক্তি। সময়ের অভাবে তাঁদের
সবার নাম-পরিচয় খুঁজে বের করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে মাদ্রাসার সেদিনের ঘটনা
সবার আগে যার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড করা হয়, সেই প্রোফাইল ঘেঁটে বেশ কয়েকজনকে
চিহ্নিত করা যায়।

অর্থাৎ, শাহজালাল তাঁর হিন্দু বন্ধুদের নিয়ে মাদ্রাসায় হামলা চালানোর কথা বললেও মূলত
হিন্দুদের একটি চক্রকে নিয়ে পরিকল্পিত সেই হামলা চালানো হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মারধরের পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে দলবলসহ মাদ্রাসায়
ঢুকেছিলেন শাহজালাল। তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার চারপাশে কয়েকজনকে ক্যামেরা হাতে
মাসলম্যানের অ্যাকশনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সেদিন মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধরের ভিডিও প্রথম সজল রায় নামে একজন হিন্দুর আইডি থেকে ছড়ানো
হয়। তাঁর সেই আইডি ঘেঁটে সেদিনের হামলায় জড়িত আরও অন্তত তিনজনকে চিহ্নিত করা হয়, যাঁরা
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

শাহজালালের এসব হিন্দু বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং বিভিন্ন সময়ে হিন্দুদের মন্দিরে মন্দিরে
ঘুরে বেড়ানোর কারণে প্রশ্ন উঠেছে, হিন্দুদের কোনো উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা
আছে কি না। আর সেই সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছে বাংলাদেশের চিহ্নিত কিছু গণমাধ্যমের আচরণ।

**প্রথম আলোর প্রতিবেদনে মিষ্টির প্যাকেটের দাবি**

প্রথম আলো ২৭ অক্টোবর একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার ওই শিক্ষক
মিষ্টি নিয়ে মালিহাদের বাসায় গিয়েছিলেন।

এবার চলুন, প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দাবি করা মিষ্টির প্যাকেটটি একটু খেয়াল করে দেখা 
যাক।

মিষ্টির প্যাকেট সাধারণত চতুর্ভুজ আকৃতির হয়। কিন্তু স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে, শিক্ষকের
হাতে থাকা বস্তুটি বই-খাতার মতো। ওই শিক্ষকের হাতে সব সময়ই এ রকম একটি ব্যাগ থাকত। 
তারপরও প্রথম আলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যাগটিকে মিষ্টির ব্যাগ হিসেবে উল্লেখ করে 
গুজব ছড়িয়েছে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

ওই শিক্ষক কারাগারে থাকলেও তাঁর ব্যবহৃত ব্যাগটি পাওয়া যায় তাঁর সেই মাদ্রাসায়। সেই
ব্যাগ ঘেঁটে দেখা যায়, ভেতরে খাতা, বই এবং ডাস্টার রয়েছে।

এ ছাড়া প্রথম আলোর খবরে দাবি করা হয়েছে, বাসায় যাওয়ার পর ওই শিক্ষককে বাসার ভেতরে ঢুকতে
দেওয়া হয়নি। কিন্তু মালিহাদের বাসার সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি বাসায় 
ঢুকেছিলেন এবং বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেছিলেন।

মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকের তুলনায় মুসলিম আহমেদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের 
সম্পর্ক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। শিক্ষার্থীরা মাঝেমধ্যে ওই শিক্ষকের বাসায় যেতেন, খুনসুটিতে
মাততেন। মাদ্রাসাশিক্ষক তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সময় কাটাতেন। কিন্তু কখনোই তাঁর বিরুদ্ধে
কেউ খারাপ কোনো অভিযোগ করেননি।

**মাদ্রাসাশিক্ষা ও আলেম সমাজের প্রতি বার্তা**

ঘটনা যা-ই হোক, মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে
কারাগারে। এরই মধ্যে সারাদেশের গণমাধ্যম তাঁকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করে ফেলেছে। 
একজনের পাপের কারণে সারাদেশের আলেমদের কটাক্ষ করা হচ্ছে।

টঙ্গীর ঘটনায় এ দেশের আলেম সমাজের জন্য একটি বিশেষ বার্তা রয়েছে। মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থা
ও আলেমদের বিরুদ্ধে যে সম্মিলিত আক্রমণ শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে এ দেশের আলেম সমাজকে আরও
সতর্ক হতে হবে।

নিজের কুপ্রবৃত্তিকে যদি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে ধর্মের লেবাস লাগানোর প্রয়োজন 
নেই। আর ধর্মের লেবাস লাগালে অপকর্ম থেকে বিরত থাকুন। কারণ, আপনাদের দেখে মানুষ ইসলামকে
বিচার করে।

বাংলাদেশের মাদ্রাসায় সমকামিতা ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা যতটা প্রচার করা হয়, পরিস্থিতি
ততটা ভয়াবহ না হলেও এসব ঘটনা একেবারেই ঘটছে না, তা বলা যাবে না। এখন প্রশ্ন হলো, মাদ্রাসায়
এ ধরনের ঘটনা একটিও ঘটবে কেন? মাদ্রাসার আলেমরা সারাদেশে দীনের দাওয়াত দিয়ে নিজের ঘর
যদি অন্ধকার করে রাখেন, তাহলে তাঁদের দাওয়াত কে শুনবে?

এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রতিটি মাদ্রাসায় বিশেষ সেল গঠন করা হোক। প্রয়োজনে প্রতিটি মাদ্রাসায়
অভিযোগ বাক্স রাখা হোক, যেখানে শিক্ষার্থীরা গোপনীয়ভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ জানাতে 
পারবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত হবে, প্রয়োজনে তাদের
গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার মতো কঠোর আইন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ক্ষমতা দিতে হবে।

The post [গাজীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর; যা উঠে আসলো সাংবাদিক ইলিয়াসের অনুসন্ধানে](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%95/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).

## লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন: বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

- Link: https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%b2%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%be/
- Published: ২০২৬-১১-০১T০৪:৪৫:৪১+০৬:০০
- Author: ডেক্স নিউজ

লংমার্চ কর্মসূচি বাদ দিয়ে সংবিধান সংস্কারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনায় বসতে
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, লংমার্চের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের
জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সমঝোতা জরুরি।

শনিবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে
আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা
বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আর যেন কোনো জুলাই জাদুঘর তৈরি করতে না হয়, সে জন্য রাজনৈতিক
ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে স্বৈরশাসন
ও ফ্যাসিবাদের উত্থানের পথ বন্ধ করতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভবিষ্যতে
বাংলাদেশে যেন আর কোনো দিন স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার উৎপত্তি না
হয়, সে জন্য প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করতে হবে। ঐকমত্য ও সমঝোতার
ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, যাতে তা টেকসই হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক
সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে 
গণতন্ত্র সুরক্ষায় কার্যকর ওয়াচডগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

The post [লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসুন: বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী](https://www.cholomansongbad.com/%e0%a6%b2%e0%a6%82%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9a-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%be/)
appeared first on [চলমান সংবাদ](https://www.cholomansongbad.com).
