পাম্পে এখনও তেল সংকট, যুদ্ধবিরতিতে সমাধানের আশা

ঢাকার পেট্রোল পাম্পে তীব্র তেল সংকট বিরাজ করছে, তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রভাবে স্বস্তির আলো দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি খোলার আশায় সারা বিশ্বের সঙ্গে চলমান জ্বালানি তেল সংকটের সমাধানের সম্ভাবনা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণের আলোচনার সূচনা হবে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে দেশে পেট্রোল অকটেনের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে, ফলে পাম্পের বাইরে দীর্ঘ গাড়ির সারি কমতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষই বুধবার নিজেদের বিজয় দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধের নিজের জয় ঘোষণা করেছেন এবং ইরানের ওপর আক্রমণ ১৫ দিন স্থগিত করেছেন। এর আগে তিনি ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রতিরোধ দেখিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত দুই দেশ আপাতত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়ে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের মতো তেল আমদানি নির্ভর দেশগুলো বিপাকে পড়েছে। তেলের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যায়, কখনও ১৫ দিনে, কখনও ৭ দিনে। সারা দেশের পেট্রোল পাম্পে রেশনিং করতে হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে কাগজে কলমে রেশনিং তুলে দেওয়া হলেও চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ হয় না।

ঢাকার পেট্রোল পাম্পের বাইরে বুধবার দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। যানবাহন চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যার কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পেট্রোলের তীব্র সংকট ও সরবরাহে বিলম্বে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং তেলের আমদানি বাড়ানো সম্ভব হলে এই চিত্র দ্রুত বদলে যাবে।

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতা মিজানুর রহমান রতন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না। ৪ হাজার লিটার পাওয়ার কথা, তবে তিন হাজার লিটার আসছে। সরবরাহ বাড়াতে না পারলে দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি যদি সাময়িক হয়, তবে সংকট আরও বাড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি খুললে অপেক্ষাকৃত ধনী দেশগুলো তেল কিনে রাখার সম্ভাবনা বেশি। ইসলামাবাদে আলোচনায় সফল না হলে ট্রাম্প যদি ১৫ দিনের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু করেন, তেলের সংকট আরও তীব্র হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বলেন, “যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। যদি আলোচনার মাধ্যমে তা স্থায়ী না হয়, তবে জ্বালানি সংকট আরও বাড়বে। অপরিশোধিত তেল আনা সহজ হলেও পরিশোধিত তেল আনা এখনও চ্যালেঞ্জিং।”

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, ২ মার্চ এক লাখ টনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের জাহাজ আসার কথা ছিল, যা পুনরায় প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং আগামীকাল দেশে পৌঁছাবে। আরও একটি জাহাজ ২০-২২ এপ্রিল আসবে। অকটেন সরবরাহের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ২৬ হাজার টন এসেছে, আরও ২৫ হাজার টন ১৭ এপ্রিল পৌঁছাবে। দেশে উৎপাদিত হবে ৩৫ হাজার টন। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসে ৮৬ হাজার টন অকটেন পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *