ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই, সেতুবন্ধনের চেষ্টায় পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার সরাসরি বৈঠকের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরআইবি জানিয়েছে, পাকিস্তান বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করছে। ইসলামাবাদের মূল কাজ হলো সংঘাত নিরসনে ইরানের বিবেচনাধীন বিষয়গুলো এবং তেহরানের প্রস্তাবগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সরাসরি আলোচনার আগে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতেই এই প্রচেষ্টা।

এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদ সফরে যাচ্ছেন। তারা মূলত ইরানের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবগুলো এবং তেহরানের ইন-পারসন (সরাসরি) কথা বলার অনুরোধটি মূল্যায়ন করবেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুতে একটি স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করবেন। যদি এই পরোক্ষ আলোচনাগুলোতে সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জিত হয়, তবেই আগামী রবিবার দুই দেশের কর্মকর্তারা সরাসরি সংলাপে বসার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার রাতে পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, আব্বাস আরাগচি মূলত পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার ‘দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো’ পর্যালোচনা করতে এসেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সফরের প্রধান গুরুত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্ভাব্য সমঝোতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *