বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা জোরদারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠক

আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

বুধবার (৬ মে) বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দফতরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, রোহিঙ্গা ইস্যু, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্গ ঢাকা সফর করেন।

বৈঠকে আগামী জুনে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পুনর্গঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি একটি ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পেয়েছিলেন, তবে গত আড়াই মাসে এর উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করে হাইকমিশনার বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগের প্রতি আস্থা জানান।

মন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানালে হাইকমিশনার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনিয়মিত ও অবৈধ অভিবাসন রোধে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়া উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দক্ষ ও শিক্ষিত জনবল পাঠানোর মাধ্যমে নিয়মিত অভিবাসন বাড়াতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী ভূমিকা ছাড়া বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দায়ভার বহন করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, গত ৪ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ক্যাম্প এলাকায় মাদক ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে হাইকমিশনার একমত পোষণ করেন।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। হাইকমিশনারও নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কাউন্সিলর রুবেন গ্রে ও প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) হ্যারি থম্পসন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *