ট্রাম্প-শি করমর্দন, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বিশেষজ্ঞের চোখে কে জিতলেন

বেজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এর বাইরে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং যখন একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন, গোটা বিশ্বের নজর ছিল তখন তাদের দিকে। দুই পরাশক্তির নেতার এই ঐতিহাসিক করমর্দন নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একজন বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বিশেষজ্ঞের দাবি, এই সাক্ষাতে ক্ষমতার লড়াইয়ে ট্রাম্পকে টেক্কা দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরান যুদ্ধ, বাণিজ্য ও জিনপিংয়ের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তাইওয়ান নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে বিশ্বের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন এবং ট্রাম্প এই আলোচনাকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বলে দাবি করেন।

তবে ব্রিটিশ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বিশেষজ্ঞ লুইস মাহলারের মতে, শুরু থেকেই দুই নেতার শরীরী ভাষায় ক্ষমতার দ্বৈরথ স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেছেন, ‘জীবন যদি একটি প্রতিযোগিতা হয়, তবে আমার কাছে এই লড়াইয়ে শি জিতেছেন।’

সাক্ষাতের শুরুতেই দুই নেতা একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার প্রস্তুতি দেখান। মাহলার বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘করমর্দনের সময় ট্রাম্প দ্রুত আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন এবং শি-র হাতের ওপর দ্বিতীয় হাত দিয়ে একটি চাপড় দেন। কিন্তু শি তার হাত সরিয়ে নেননি। তাদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথা হওয়ার সময় ট্রাম্প দ্বিতীয়বার শি-র হাতে চাপড় দেন।’

সাধারণত এই ধরনের হাতের ওপর চাপড় দেওয়াকে বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হলেও বিশেষজ্ঞের মতে এটি একটি ‘পাওয়ার মুভ’ বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। অনেক সময় একে অন্যকে ছোট করে দেখার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও ধরা হয়। কিন্তু ট্রাম্পের এই চেষ্টা সফল হয়নি বলেই মনে করেন মাহলার। তিনি বলেন, ‘শি তার অবস্থানে অনড় ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনিই করমর্দন শেষ করার ইঙ্গিত দেন। পরে হাঁটার সময়ও ট্রাম্প হাত দিয়ে শি-কে পথ দেখানোর ভঙ্গি করেন।’

এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে একজন ‘উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শুরুতে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার বন্ধু হতে পারাটা সম্মানের।’ সেই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক ‘আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে ভালো হতে যাচ্ছে।’

সূত্র: মিরর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *