এবার মধ্যপ্রদেশে তরমুজ খেয়ে বাবার মৃত্যু, ছেলে আশঙ্কাজনক

ভারতের মধ্যপ্রদেশের শিউপুর জেলায় তরমুজ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার ছেলের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। রহস্যময় এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম ইন্দ্র কুমার পরিহার (৪৩)। তিনি মূলত শাজাপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং শিউপুরে চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি সপরিবার একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ইন্দ্র কুমার ও তার ২১ বছর বয়সী ছেলে বিনোদ অসুস্থ বোধ করছিলেন। শুক্রবার সকালে তারা বাড়িতে তরমুজ খান। এর কিছুক্ষণ পরই তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। অবস্থা গুরুতর দেখে পরিবারের সদস্যরা তাদের দ্রুত শিউপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ইন্দ্র কুমারের অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে কোটা শহরে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। ছেলে বিনোদ বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

ইন্দ্র কুমার পরিহারের পরিবারে তার স্ত্রী সঙ্গীতা এবং তিন ছেলে বিনোদ, রাজা ও দেব রয়েছেন। রাধিকা নামের পরিবারের আরেক সদস্যও তাদের সঙ্গে থাকতেন।

জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. আর বি গোয়েল বলেন, শুক্রবার সকালে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে তরমুজ খাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি ধারণা করছেন, রোগীরা হয়তো পাকস্থলীর কোনও সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন এবং রিপোর্ট আসার পরেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

এই ঘটনার পর ফলের মধ্যে কোনও বিষাক্ত পদার্থ বা রাসায়নিকের উপস্থিতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

এর আগে, মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন সপ্তাহ পরও তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে পারছেন না, ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন রাতে। গত ২৫ এপ্রিল মুম্বাইয়ের পাইধোনি এলাকার বাসা থেকে আবদুল্লাহ ডোকাদিয়া, তার স্ত্রী নাসরিন এবং দুই মেয়ে আয়েশা ও জয়নাবকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর একে একে চারজনেরই মৃত্যু হয়।

গত সপ্তাহে মুম্বাই পুলিশ জানায়, ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ডোকাদিয়া পরিবারের মৃত্যুর কারণ ছিল জিঙ্ক ফসফাইড; যা ইঁদুর মারতে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক। মৃতদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং তরমুজের অবশিষ্টাংশে এই রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *