‘ভোটের আগে ফোঁস করে, পরে আর করে না’, সংসদে সরকারদলীয় এমপি

নির্বাচনের সময় ভোটারদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে পরে তা ভুলে যাওয়ার একটি বাস্তব চিত্র জাতীয় সংসদে গল্পচ্ছলে তুলে ধরেছেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক। ভোটের দিন এক বৃদ্ধাকে ‘কোমল পানীয়’ পানের প্রলোভন দেখানোর গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘উনারা তখন ভোটারকে বললেন—ভোটের আগে ফোঁস করে, ভোটের পরে আর করে না।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিজ্ঞতার কথা জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় আব্দুল মালিক সাধারণ সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদে পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন জায়গায় কথা বলার সময় পান। কিন্তু আমাদের সাধারণ সদস্যদের কোনও জায়গা নেই। আমাদের ফোরাম একটাই—এই পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদ। তাই এখানে সময়ের দিকে একটু লক্ষ্য রাখার জন্য মাননীয় স্পিকার আপনাকে অনুরোধ করবো।’

নিজের নির্বাচনি এলাকার রাজনৈতিক উত্তাপ ও বাধা-বিপত্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকা আর মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার এলাকা একই। সেখানে অনেক কিছু সহ্য করে, অনেক কিছুর বিনিময়ে আমি এই পার্লামেন্টে আসতে পেরেছি। আপনারা জান্নাতের টিকিটের কথা শুনেছেন। কেউ বোরকা কিংবা সালোয়ার-কামিজের কথা শুনেছেন কিনা, আমি জানি না।’

এরপর নির্বাচনের দিনের একটি গল্প তুলে ধরে আব্দুল মালিক বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে ভোটার স্লিপ দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের এজেন্টদের ক্যাম্প থাকে। তেমনই এক “জান্নাতি ক্যাম্পে” আমার এক বৃদ্ধা মা ভোট দিতে যাওয়ার পথে ডাক পেলেন। সেখানে যাওয়ার পর তিনি তৃষ্ণার্ত হয়ে একটু পানি চাইলেন। তখন তাকে একটি কোক দেওয়া হলো। মাননীয় স্পিকার, আপনি জানেন, কোক খুললেই ফোঁস করে একটা শব্দ হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ওই বৃদ্ধা মা ভোট দিয়ে আসার পর একই ক্যাম্পে আবার গেলেন। গিয়ে বললেন, আমাকে আরেকটু পানি দেন। উনারা তখন তাকে সাধারণ পানি দিলেন। বৃদ্ধা বললেন—না, আমাকে ওই ফোঁস করে যে শব্দ হয়, সেই পানিটা দেওয়া হোক। তখন উনারা বললেন—ভোটের আগে ফোঁস করে, ভোটের পরে আর ফোঁস করে না।’

সংসদে হাসির খোরাক জোগানো এই গল্পের পর স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে আব্দুল মালিক বলেন, ‘আজ এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জনবান্ধব বাজেটের ওপর আমার বক্তব্য পেশ করছি।’ এরপর তিনি বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে তার মূল আলোচনা শুরু করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *