তাজিয়া মিছিলে ডুলির রশি ধরাকে কেন্দ্র করে সেই যুবক হত্যা, গ্রেফতার ৪

পুরান ঢাকার বাংলাবাজার এলাকায় তাজিয়া মিছিলে ডুলির রশি ধরাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলো– মো. রাশেদ, আতিকুল ইসলাম শান্ত, মো. হৃদয় ও শিহাব মোল্লা। তাদের হেফাজত থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি চাপাতি এবং ঘটনার সময় পরিধান করা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকালে সূত্রাপুরের বিবিকা রওজা ইমামবাড়া থেকে একটি তাজিয়া মিছিল সূত্রাপুর হয়ে চকবাজার-লালবাগ রুটে ধানমন্ডির দিকে রওনা দেয়। মিছিলটি বাংলাবাজার অতিক্রম করার সময় পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচতলায় অজ্ঞাত কিছু যুবক এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ডিসি আরও জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্তে কাজ শুরু করে। তথ্য বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন সূত্র যাচাইয়ের পর জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম মো. জাকির হোসেন (৩১)। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই অজ্ঞাত ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে সূত্রাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয় এবং বিশেষ অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাজিয়া মিছিলে ডুলির রশি ধরাকে কেন্দ্র করে ভিক্টিম ও অভিযুক্তদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভুক্তভোগী আত্মরক্ষার্থে ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নিলে সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে মোট ১০ জনের নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *