অবশেষে কারামুক্ত গরিবের ডাক্তার, ঘটনাস্থলে না থেকেও জুলাইয়ের মামলার আসামি

বগুড়ায় ছয় দিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পেলেন ‌‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত চিকিৎসক সামির হোসেন মিশু। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বগুড়া জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবী তানজীম আল মিজবাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রবিবার বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কৌসিক আহমেদের আদালতে জামিন শুনানি হয়। সোমবার সকালে জামিনের আদেশ দেন বিচারক।

গত ২৩ জুন রাতে শেরপুর উপজেলার রনবীরবালা ঘাটপাড় এলাকায় মকটেল আইসল্যান্ড বিনোদন কেন্দ্রে জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন যুবদলের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৩ জুন রাতে মকটেল আইসল্যান্ডে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন মিশু। রাত ১১টার দিকে প্রতিপক্ষ চিকিৎসকদের ইন্ধনে স্থানীয় যুবদল নেতারা তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। রাতেই বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরদিন দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে মিশুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী তানজীম আল মিজবাহ বলেন, ‘রবিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ডা. মিশুর জামিন শুনানি হয়। আমরা আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হই, ডা. মিশু ২০১৬ সাল থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করছেন। তিনি কোনোদিন বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেননি। তাই বাদীকে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আজ সকালে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।’ শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আবদুল বাছেদ।

ডা. সামির হোসেন মিশু বগুড়া মহানগরীর জলেশ্বরীতলা এলাকার মৃত ডা. সাফদার হোসেনের ছেলে। তিনি বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছিলেন। এ ছাড়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের বগুড়া শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাগেরহাটে সরকারি ম্যাটসের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অসহায়-দরিদ্র মানুষকে ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত পান মিশু। গত ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে বগুড়া থেকে বদলি করা হয়।

পুলিশ জানায়, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে মো. আরাফ জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭২ জনের নাম উল্লেখ করে ৪৭২ জনকে আসামি করা হয়। ডা. মিশু এই মামলার আসামি।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুরে বগুড়া শহরের বড়গোলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। তিনি আহত হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে ডা. সামির হোসেন মিশু তাকে চিকিৎসা নিতে বাধা দিয়ে বের করে দেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *