২৫০ বছরে যেভাবে পরাশক্তি হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দেশটির অর্থনীতি, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক প্রভাবের প্রশংসা করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের বাস্তব সূচক অনুযায়ী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের মানুষ অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় দীর্ঘ, উন্নত, সমৃদ্ধ, স্বাস্থ্যকর ও স্বাধীন জীবনযাপন করছে।

নিবন্ধে বলা হয়, নানা সমস্যা ও রাজনৈতিক বিভাজন থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে অতিরিক্ত হতাশাবাদ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং বর্তমান সময়কে আশা ও সম্ভাবনার সময় হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবসা শুরু, ঝুঁকি নেওয়া এবং বড় স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে উপযোগী দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম, গভীরতম ও সবচেয়ে স্বচ্ছ অর্থনীতির অধিকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

অপ্রতিরোধ্য অর্থনীতি

নিবন্ধে দাবি করা হয়, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে বাস করলেও বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২৬ শতাংশ দেশটি উৎপাদন করে। একই সঙ্গে বিশ্বের মোট শেয়ারবাজার মূলধনের ৬৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ৫৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের দখলে রয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সামান্য বড় ছিল। বর্তমানে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছোট। গত বছর ফর্চুন ৫০০ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেকই অভিবাসী অথবা তাদের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবসা ও উদ্ভাবনের জোয়ার

নতুন ব্যবসা গঠনের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, মহামারির পর থেকে দেশটিতে বছরে গড়ে প্রায় ৫৫ লাখ নতুন ব্যবসার আবেদন জমা পড়েছে, যা মহামারির আগের সময়ের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারের ফলে একক উদ্যোক্তাদের সংখ্যা এবং সফল ব্যবসা গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জীবনযাত্রার মান ও দীর্ঘায়ু

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক মৃত্যুহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মাদকাসক্তিজনিত মৃত্যুর হার কমে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সব বয়স ও জনগোষ্ঠীর মধ্যেই মৃত্যুহার কমেছে বলে দাবি করা হয়।

দানশীলতায় শীর্ষস্থান

জনকল্যাণমূলক কাজের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরে নিবন্ধে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশটির নাগরিকরা দাতব্য খাতে রেকর্ড ৬১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন, যা বিশ্বের যেকোনও দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।

নিবন্ধের বলা হয়েছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক পরিশ্রমী, উদার ও আদর্শবাদী। তাদের জন্য আরও ভালো নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *