ব্যারিকেড ভেঙে ভোপালে ২০০০ কৃষক, যোগ দিলো জেন-জিরাও

এক সপ্তাহের খাবার ও জামাকাপড় সঙ্গে নিয়ে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে ঢুকে পড়েছেন দুই হাজারের বেশি কৃষক। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের লক্ষ্যে সাভারকর ব্রিজের কাছে অবস্থান নিয়েছেন তারা। তাদের মূল দাবি, মুগ ডালের শতভাগ সরকারি ক্রয় নিশ্চিত করা এবং ই-টোকেন প্রথার বিলোপ। এই কৃষক আন্দোলনে এবার এসে যোগ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন জেন-জি তরুণ সমর্থকও।

নর্মদাপুরম জেলা থেকে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ব্যানারে জাতীয় পতাকা হাতে ‘জয় জওয়ান, জয় কিষাণ’ স্লোগানে যাত্রা শুরু করেছিলেন কৃষকরা। একাধিক পুলিশি বাধা পেরিয়ে ভোপালের কাছে পৌঁছানোর পর মধ্যপ্রদেশ সরকার প্রথম দফার বৈঠক করলেও কোনও সমাধান আসেনি।

সংকট নিরসনে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নির্দেশে গঠিত মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির ফের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। এদিকে, উত্তর প্রদেশভিত্তিক কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইতের সঙ্গে দিল্লিভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতারা বৈঠক করে কৃষক ও তরুণদের সমন্বয়ে যৌথ প্ল্যাটফর্ম গড়ার আলোচনা করেছেন।

ভারতে মুগ ডালের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় নীতি অনুযায়ী মোট উৎপাদনের মাত্র ২৫ শতাংশ সর্বনিম্ন সহায়কমূল্য মূল্যে কেনা হচ্ছে। নির্ধারিত ৮ হাজার ৬৬৮ রুপি প্রতি কুইন্টালের বিপরীতে কৃষকদের বাকি ফসল খোলা বাজারে কুইন্টাল প্রতি ৩ হাজার  থেকে ৪ হাজার রুপি লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রদেশের কৃষিমন্ত্রী এইদাল সিং কংসানা ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করতে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে চিঠি দেন। জবাবে চৌহান জানান, কেন্দ্র ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ ৪.৫৪ লাখ মেট্রিক টন বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এর বাইরে অতিরিক্ত কেনাকাটা করতে হলে রাজ্যকে নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করতে হবে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে ডাল-বাটি রান্না করে খাওয়া চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষকরা। যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় বিপুল পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) ও জলকামান মোতায়েন করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *