উগান্ডায় নেতানিয়াহুর ভাইয়ের ভাস্কর্য উন্মোচন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইয়োনাতান ‘ইয়োনি’ নেতানিয়াহুর ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে উগান্ডার পুরনো এনতেব্বে বিমানবন্দরের টার্মিনালে। ১৯৭৬ সালে জিম্মিদের উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সেখানেই নিহত হন তিনি। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে। 

দ্য কাম্পালা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাস্কর্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে উগান্ডার সামরিক প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা বলেন, এই ঐতিহাসিক স্থানে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পেরে আমি সম্মানিত। ১৯৭৬ সালের ৪ জুলাই এনতেব্বে অভিযানে ইসরায়েলি উদ্ধারকারী বাহিনীর সাহসী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়োনাতান ইয়োনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ সাহস, দায়িত্ববোধ ও নিঃস্বার্থ সেবার এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যখন এখানে একত্রিত হয়েছি, তখন সেই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো নিরীহ জিম্মিদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাদের স্মৃতি এই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।

উগান্ডার সামরিক প্রধান বলেন, ১৯৭৬ সালের ঘটনার বাইরেও উগান্ডা ও ইসরায়েলের বন্ধুত্ব অনেক পুরোনো। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে।

১৯৭৬ সালে তেল আবিব থেকে প্যারিসগামী এয়ার ফ্রান্সের একটি উড়োজাহাজ, যেখানে ২৪৬ জন যাত্রী ছিলেন, এথেন্সে যাত্রাবিরতির পর ফিলিস্তিনের পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন এবং জার্মানির রেভল্যুশনারি সেলসের সদস্যদের ছিনতাইয়ের শিকার হয়।

পরে উড়োজাহাজটি উগান্ডায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তৎকালীন শাসক ইদি আমিন ছিনতাইকারীদের আশ্রয় দেন। তারা ইসরায়েলি ও ইহুদি যাত্রীদের অন্যদের থেকে আলাদা করে। পরবর্তী দুই দিনে অধিকাংশ যাত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ৪ জুলাই ইসরায়েলি কমান্ডো বাহিনী হাজার হাজার মাইল দূরে উড়ে গিয়ে এনতেব্বেতে অভিযান চালিয়ে ১০০ জনের বেশি জিম্মিকে উদ্ধার করে। এই অভিযান ইসরায়েলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সামরিক অভিযানে পরিণত হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *