জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং জবি শাখার ইনকিলাব মঞ্চের সভাপতি নূর মোহাম্মদের ওপর সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ হামলার ঘটনায় অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ছাত্রদলের হামলায় আহত ইনকিলাব মঞ্চের এক নারী শিক্ষার্থীকে দেখতে যাওয়ার জন্য সংগঠনের সদস্যরা সোহরাওয়ার্দী কলেজের দিকে যান। সে সময় তাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়।
হামলার শিকার নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের এক আপুকে দেখতে যাচ্ছিলাম ফল কিনে নিয়ে, যিনি ছাত্রদলের গতকালের হামলায় আহত হন। আমরা পাঁচজন সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে ফল কিনে অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিমেল গ্রুপের ইশারায় ২০-২৫ জন নিয়ে আমাদের ঘিরে ধরেন। এরপর ভিডিও কলে কারও কাছ থেকে নিশ্চিত হন যে, আমি জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লাঠি ও কাঠের টুকরো নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত নির্মমভাবে আমাদের মারধর করা হয়েছে। পেটানোর একপর্যায়ে আমরা সবাই রাস্তায় শুয়ে পড়ি। কিন্তু শুয়ে পড়ার পরও তারা ক্ষান্ত হয়নি, অনবরত লাথি মারতে থাকে এবং পালা, পালা বলে চিৎকার করতে থাকে।’
হামলার শিকার জবি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন তাসিন বলেন, মাগরিবের আজানের কিছুক্ষণ আগে জবি ইনকিলাব মঞ্চের ৫ জন সদস্য আহত মিমকে দেখতে যাওয়ার জন্য সোহরাওয়ার্দী কলেজের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ইমু আপুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জবির দুজন শিক্ষার্থী বাসায় যাওয়ার পথে তাদের দেখে আলাপ শুরু করেন।
তাসিন অভিযোগ করেন, “এরপর ১৫-২০ জনের একটি দল (পরে জানতে পারি সোহরাওয়ার্দী ছাত্রদলের জসিম গ্রুপ) আমাদের সামনে এসে জিজ্ঞেস করে আমরা কোথায় পড়ি। একইসঙ্গে ভিডিও কলে থাকা একজনকে দেখিয়ে বলে—‘ভাই দেখেন তো এ জকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক কি না!’ ওপার থেকে ইতিবাচক সাড়া আসার পরপরই তারা কাঠের লাঠি দিয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। নূর ভাইকে টার্গেট করে প্রথমে সিঁড়ির ওপর ফেলে মাথা, হাত ও পায়ের গিরায় পেটানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে তাকে রাস্তায় ফেলে পেটানো হয়।”
তিনি আরও জানান, হামলায় তার ছোট ভাই রাকিব, আলফাজ ও আবু বকর জখম হয়েছেন এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। হামলার সময় তাসিন নিজে পালিয়ে একটি মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডের দোকানে আশ্রয় নেন এবং পরে নিরাপদ স্থানে পৌঁছান।
এ বিষয়ে জকসু জিএস ও ছাত্র শিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছাত্রদল কি এখন গুন্ডা পোষা শুরু করেছে? সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের কর্মীরা জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, হামলাকারীদের এখনই বিচারের আওতায় আনুন। নইলে আজ যারা অন্যের ওপর হামলা করছে, কাল তারাই আপনার ওপরও হামলা করবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘গতকালের ঘটনার পর থেকে আমি অসুস্থ। বিকেলে কলেজে কেউ থাকার কথা না। তবে আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।’