বাবুলের সঙ্গে কেউ সংশ্লিষ্ট কি না বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ

সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় আটক বাবুল মিয়ার রিমান্ড শেষ হচ্ছে আজ বুধবার। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। রিমান্ড শেষে এ বিষয়ে এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম ব্রিফ করবেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, বাবুলকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে কারও কোনও লিংক আপ আছে কি না সে বিষয়েও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি খান মাইনুল জাকির ও মামলার আইও শিপলু চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তবে, পরিবারের সদস্যরা এখনো ট্রমাটাইজড। প্রয়োজনে তাদের সাথে ফের কথা বলার চেষ্টা করা হবে।

এ ঘটনার সঙ্গে বাবুল ছাড়া অন্য কারও সংশ্লিষ্ট আছে কি না এ বিষয়ে তিনি জানান, তারা সবকিছুই খতিয়ে দেখছেন। কমিশনার মহোদয় সামগ্রিক বিষয়ে ব্রিফ করবেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি খান মাইনুল জাকির বলেন, তদন্ত একটি সময় সাপেক্ষ বিষয়। কারা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এটা তাৎক্ষণিকভাবে বলা মুশকিল। ধারাবাহিকভাবে সবকিছুরই তদন্ত করা হবে।

বাবুল একাই তিন খুন করেছে-এসএমপি কমিশনারের এ বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাবলিক সেন্টিম্যান্টের কারণে স্যার তাৎক্ষণিকভাবে এমন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে, তদন্তে সবকিছু পরিষ্কার হবে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবুল মিয়াে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড চায়। শুনানি শেষে আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বুধবার রাতে তার রিমান্ড শেষ হবে।

এর আগে, গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মহানগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা নিকুঞ্জ ভিলার মালিক বিয়ানীবাজার আখাখাজনা এলাকার মৃত আবরু মিয়ার ছেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে (২৫) হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী কলেজের মর্গে পাঠায়।

এদিকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আসরের নামাজের পর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মহানগরীর মানিক পীরের টিলায় নিহত দম্পতির দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে, নিহতদের দাফন শেষ করে এ দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মেয়ে সেলিনা বেগম ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

 সোমবার এ দম্পতির চার সন্তান তাদের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *