‘হার মেনে নেওয়া যায়, প্রতারণা নয়’—বাবার সেই শিক্ষা আজও বুকে ধারণ করেন টেন্ডুলকার

ব্যর্থ হওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা করা যায় না। বাবার দেওয়া এই শিক্ষা আজও নিজের জীবনের অন্যতম মূলমন্ত্র হিসেবে বয়ে বেড়ান শচীন টেন্ডুলকার। শিক্ষক দিবসে প্রয়াত বাবা রমেশ টেন্ডুলকারকে স্মরণ করতে গিয়ে নিজের ক্রিকেটযাত্রার নেপথ্যের সেই মানুষটির কথা তুলে ধরেছেন ভারতের কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার। একই সঙ্গে বাবার স্মৃতিতে চালু করেছেন প্রফেসর রমেশ টেন্ডুলকার মেমোরিয়াল ফেলোশিপ।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ বাবাকে স্মরণ করে টেন্ডুলকার বলেন, তার ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা সবার আগে বুঝতে পেরেছিলেন রমেশ টেন্ডুলকার। নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করার ক্ষেত্রে ছেলেকে পূর্ণ স্বাধীনতাও দিয়েছিলেন তিনি।

টেন্ডুলকার লিখেছেন, ‘যখন ভাবি, কারা আমার পথচলাকে গড়ে দিয়েছেন, তখন কোনো ক্রিকেট মাঠ বা কোচের কথা দিয়ে শুরু করি না। শুরু করি বাড়ি থেকে। পরিবারের বাইরে কেউ আমার নাম জানার অনেক আগেই বাবা আমার ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বুঝতে পেরেছিলেন এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, বুঝেছিলেন ক্রিকেট আমার কাছে কী অর্থ বহন করে। সেই যাত্রা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে, তা তিনি হয়তো জানতেন না। কিন্তু নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করার স্বাধীনতা আমাকে দিয়েছিলেন।’

লেখক, কবি ও অধ্যাপক রমেশ টেন্ডুলকার শুধু বাবা ছিলেন না, অনেকের মতো শচীনের কাছেও ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক ও পরামর্শদাতা। সাফল্যের চেয়েও চরিত্র ও সততাকে বড় করে দেখতেন তিনি।

বাবার দেওয়া শিক্ষার কথা স্মরণ করে টেন্ডুলকার বলেন, ‘তিনি আমাকে ক্রিকেট অনুসরণ করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিতেন, চরিত্র বিসর্জন দিয়ে কখনও সাফল্য অর্জন করা উচিত নয়। ছোটবেলায় বাবা আমাকে যে কথাগুলো বলেছিলেন, সেগুলোর কিছু সারাজীবন আমার সঙ্গে থেকেছে- ব্যর্থ হওয়া ঠিক আছে, কিন্তু প্রতারণা করা নয়। কখনও শর্টকাটের পথে যেও না।’

টেন্ডুলকারের মতে, একজন সত্যিকারের শিক্ষক বা পরামর্শদাতার কাজই হলো অন্যের ভেতরের সম্ভাবনাকে চিনতে পারা এবং সেটিকে বিকশিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সমর্থন দেওয়া।

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে টেন্ডুলকার আরও বলেন, নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস তিনিই তাকে দিয়েছিলেন। শিক্ষাদান ও অন্যদের পথ দেখাতেই জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন রমেশ টেন্ডুলকার। শচীন আরও বলেছেন, ‘আমি আশা করি, আমরা অন্যদের জন্যও একই ধরনের সম্ভাবনার অনুভূতি তৈরি করতে পারবো। শিশু ও তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ আবিষ্কার করার সুযোগ দিতে পারবো এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয় মাধ্যমও দিতে পারবো।’

সবশেষে শিক্ষক ও পরামর্শদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টেন্ডুলকার বলেছেন, ‘একজন শিক্ষকের শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে শুরু হতে পারে, কিন্তু তার প্রভাব আরও অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। এক জীবন থেকে আরেক জীবনে, এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে। শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা!’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *