মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রীর সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা বৃদ্ধি, শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং শিশুশ্রম নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

এছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন, তৈরি পোশাক খাত, কেয়ারগিভিং, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কার্বন ট্রেডিং, উত্তরাধিকার আইন এবং ডিএনএ ল্যাবের কার্যক্রম আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী নরওয়েকে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে নরওয়ে সরকারের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি ভবিষ্যতেও দেশটির উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “বর্তমান সরকার নারী ও শিশুসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে তৃণমূলের নারীদের জীবনমান ও দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সিড মানি দেওয়া হচ্ছে।”

কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

এ সময় নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বাংলাদেশে গত দুই বছর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি নারী শিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বিশেষ করে দেশের তৈরি পোশাক খাতে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ওই অঞ্চলের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের চলমান জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

বৈঠকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারী অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রতি পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি করে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”

মন্ত্রী বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড সরকারের জন্য নিছক কোনও ব্যয় নয়, এটি একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ।” তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ নারীরা পরিবারের পুষ্টিকর খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা এবং সঞ্চয়সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশ্ববাজারে দক্ষ কেয়ারগিভারের ব্যাপক চাহিদার বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দক্ষ কেয়ারগিভার তৈরি এবং তাদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়।” এক্ষেত্রে নরওয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নরওয়েসহ ইউরোপের বাজারে রফতানির সুযোগ সম্প্রসারণেও দেশটির সহযোগিতা চান মন্ত্রী।

বৈঠকের একপর্যায়ে বাংলাদেশের ডিএনএ ল্যাবগুলোর আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হলে রাষ্ট্রদূত এই বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *