বিএনপি আমলের বদলি-পদোন্নতি নিয়ে আমার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান: আসিফ মাহমুদ

বিএনপি আমলের বদলি-পদোন্নতি নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান করছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া। তিনি বলেন, ১৩৫ জনের পদোন্নতি দেওয়া হয় চলতি বছরের ১১ মে। এর সঙ্গে তাকে সংশ্লিষ্ট করে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে তার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক দুর্নীতির অভিযোগ খণ্ডন নিয়ে বিশেষ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা এবং এ বিষয়ে প্রচারিত দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বাস্তবতা তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে তুলে ধরেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুদকে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় তার মানহানি হয়েছে। তার অভিযোগ, তিনি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার। অতীতেও প্রতিপক্ষকে দমন করতে দুদককে ব্যবহার করা হতো। বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনৈতিকভাবে সরকার হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ আসিফের। তার মতে, দুদকের উচিত বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাভাবিক ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান চালালে তার কোনও আপত্তি নেই। বরং তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। তার অভিযোগ তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানোর উদ্দেশে দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আসিফ মাহমুদের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, মূলত উপদেষ্টা হিসেবে থাকার সময় আমি সাধারণ মানুষের পক্ষে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সে কারণেই এখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দুদক বর্তমানে রাজনৈতিক কায়দায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কমিশনটির চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুদকে চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে যা হয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবেই করা হয়েছে। এতে এটি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *