১৩ ঘণ্টা ধরে হাসপাতালে বিদ্যুৎ নেই, টর্চলাইটের আলোতে চলছে চিকিৎসা

দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ চলে গেছে। রাত ১টা পর্যন্ত আসেনি। বাধ্য হয়ে টর্চলাইটের আলোয় চলছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। টানা ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী তাদের স্বজনরা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নাটোরের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়েছে বিদ্যুৎবিহীন এমন দুরাবস্থা

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার ফলে ৫০ শয্যার ওই হাসপাতালটি শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দিনভর বিদ্যুৎ ছাড়াই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। তবে বিপত্তি ঘটে দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর থেকে। সন্ধ্যার পর থেকে হাসপাতালের নিরাপত্তার নিয়োজিত আনসার সদস্যদের টর্চলাইটের আলোতে চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে চিকিৎসকদের। নার্সরা রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন এবং ইনজেকশন পুশ করার সময় আনসার সদস্যদের লাইটের আলো ধরে থাকতে দেখা গেছে। মুমূর্ষু রোগীদের কথা বিবেচনা করে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগটি ঠিক করতে জরুরি কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সিংড়া পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, শিশু-বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব বয়সের রোগী হাসপাতালে আছেন। ১৩ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চিকিৎসা দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভর্তি হতে আসা এবং জরুরি বিভাগের রোগীদের অনলাইনভিত্তিক টিকিট দেওয়া সম্ভব হয়নি আজ। রোগী ও চিকিৎসকদের ভোগান্তি রোধে হাসপাতালের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি তার।

ভর্তি থাকা রোগীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় হাসপাতালের জেনারেটর চালু করা হলেও জ্বালানি তেল সংকটে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ফলে নিজেদের মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে ওষুধ সেবনসহ প্রয়োজনীয় কাজ করছেন তারা। বিশেষ করে শিশু-বৃদ্ধদের দুর্ভোগের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর স্বজন হুমায়ুন কবীর, অসিত সরকার, আব্দুর রশিদসহ অন্তত সাত জন জানালেন বিদ্যুৎহীন দুর্ভোগের কথা। তারা বলেন, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও উচ্চ রক্তচাপের রোগ নিয়ে হাসপাতালে আছেন তারা। ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শ্বাসকষ্টের রোগীকে সময় মতো গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয়নি। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গেছেন উচ্চ রক্তচাপের রোগীও। বিদ্যুৎ বিহীন এই পরিস্থিতির জন্য হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতিকে দায়ী করছেন তারা।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ বন্ধের পর থেকেই তারা হাসপাতালের জেনারেটর চালু রেখেছেন। মাঝেমধ্যে বন্ধ রাখতে হয়। রোগীদের আসলে কষ্ট হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিংড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক লাইনের ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই পল্লী বিদ্যুতের লোকজন মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। সমস্যাটি জটিল। রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে। হাসপাতালের রোগী এবং স্বজনদের ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *