সালমান এফ. রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে শুনানি ২৬ অক্টোবর

চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন শুনানির জন্য প্রসিকিউশন পক্ষে সময় চান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সালমান এফ রহমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানান, বিদেশি আইনজীবী নিয়ে বার কাউন্সিলকে নির্দেশনা দেওয়ার আবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটরের উপস্থিতি প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি ছুটিতে রয়েছেন। এছাড়া মামলাটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই অক্টোবরের শেষের দিকে শুনানির তারিখ দিলে ভালো হয়।

তখন ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, “আবেদনটি অনেক পুরোনো। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল একটি আদেশও দিয়েছেন। তবে মামলার বিচার চলাকালে বিদেশি আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন।”

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে সালমান এফ রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে লড়তে চেয়ে গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের কাউন্সেল গ্রায়েম এল হল। আবেদনটি ২৪ আগস্ট গ্রহণ করে বার কাউন্সিল।

গ্রায়েম এল হল জানান, সালমান ফজলুর রহমানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে তাকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। আবেদনের সঙ্গে নিজের প্রোফাইল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রও সংযুক্ত করেন তিনি।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে আবেদন করেন মুনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে হলে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হয়। পরে বার কাউন্সিলে আবেদন করতে হয়। তাদের অনুমতি পেলে আইনজীবী নিয়োগে কোনও বাধা থাকবে না। তবে তার আবেদনে আপত্তি জানিয়েছিল প্রসিকিউশন।”

এ মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১২ জন সাক্ষী।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর এসব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *