অ্যান্ড্রয়েড ফোনে লুকিয়ে থাকা দরকারি ৫ ‘ডেভেলপার সেটিংস’

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা ডেভেলপার অপশনস মূলত অ্যাপ নির্মাতা ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি হলেও, এর কিছু সেটিংস সাধারণ ব্যবহারকারীরাও কাজে লাগাতে পারেন। অ্যানিমেশন দ্রুত করা, ইউএসবি সংযোগের ধরন নির্ধারণ বা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মতো কাজে এসব অপশন ব্যবহার করা যায়। তবে ফোনভেদে সেটিংসের নাম ও অবস্থান কিছুটা আলাদা হতে পারে এবং অজানা অপশন পরিবর্তন করলে ফোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।

ডেভেলপার অপশনস চালু করবেন যেভাবে

প্রথমে ফোনের সেটিংস > অ্যাবাউট ফোন-এ যেতে হবে। সেখানে বিল্ড নম্বর খুঁজে সেটিতে পরপর সাতবার ট্যাপ করতে হবে। এরপর ‘ইউ আর নাও এ ডেভেলপার!’ লেখা বার্তা দেখালে সিস্টেম > ডেভেলপার অপশনস-এ গিয়ে নতুন মেনুটি পাওয়া যাবে। কিছু ফোনে বিল্ড নম্বরের অবস্থান অ্যাবাউট ফোন > অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন-এর ভেতরেও থাকতে পারে।

ইউএসবি ডিবাগিং চালু রাখুন

ইউএসবি ডিবাগিং চালু করলে অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে কম্পিউটারের সঙ্গে অ্যান্ডয়েড ডিবাগ ব্রিজ (এডিবি)-এর মাধ্যমে সংযুক্ত করে কমান্ড পাঠানো, অ্যাপ পরীক্ষা ও ফোনের বিভিন্ন তথ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ পাওয়া যায়। ফোন কম্পিউটারে সংযুক্ত করার পর ব্যবহারকারীর কাছে ডিবাগিং অনুমোদনের নোটিফিকেশন আসতে পারে। তবে অপরিচিত কম্পিউটারে ইউএসবি ডিবাগিংয়ের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। কারণ অনুমতি দিলে ওই কম্পিউটার এডিবির মাধ্যমে ফোনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিভিন্ন উন্নত কমান্ড চালানোর সুযোগ পেতে পারে।

অ্যানিমেশন কমিয়ে ফোনের গতি বাড়ান

ডেভেলপার অপশনসে উইন্ডো অ্যানিমেশন স্কেল, ট্রানজিশন অ্যানিমেশন স্কেল এবং অ্যানিমেটর ডিউরেশন স্কেল নামে তিনটি সেটিংস থাকে। সাধারণত এগুলোর মান ১x অপশনে থাকে। তিনটিই ০.৫x করলে বিভিন্ন মেনু ও স্ক্রিন পরিবর্তনের অ্যানিমেশন দ্রুত দেখা যায়। পুরোপুরি অ্যানিমেশন বন্ধ করতে চাইলে ‘অ্যানিমেশন অফ’ অপশনটিও নির্বাচন করা যায়। এতে ফোনের প্রসেসিং ক্ষমতা বাড়ে না, তবে ব্যবহারকারীর কাছে ইন্টারফেস দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে বলে মনে হতে পারে।

ইউএসবি সংযোগের ধরন আগে থেকেই ঠিক করুন

ডিফল্ট ইউএসবি কনফিগারেশন অপশনের মাধ্যমে ফোন কম্পিউটারে সংযুক্ত হলে ডিফল্টভাবে কী ধরনের সংযোগ ব্যবহার হবে, তা নির্ধারণ করা যায়। যেমন শুধু চার্জিং, ফাইল ট্র্যান্সফার বা অন্য সমর্থিত ইউএসবি মোড। নিয়মিত কম্পিউটারে ফাইল আদান-প্রদান করা হলে প্রতিবার নোটিফিকেশন থেকে আলাদা করে মোড নির্বাচন করার প্রয়োজন কমে যাবে।

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের সংখ্যা সীমিত করুন

ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস লিমিট সেটিংসের মাধ্যমে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে একসঙ্গে কতগুলো প্রসেস চালু থাকতে পারবে, তা নির্ধারণ করা যায়। পুরোনো বা কম ক্ষমতাসম্পন্ন ফোনে এই সীমা কমিয়ে দিলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপের চাপ কমানো সম্ভব। তবে এর ফলে মাল্টিটাস্কিং ব্যাহত হতে পারে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই সেটিংস পরিবর্তনের আগে সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *