আলোচনায় সিমরিন লুবাবার বাল্যবিয়ে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি নারীপক্ষের

মডেল ও অভিনেত্রী সিমরিন লুবাবার বিয়ের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘নারীপক্ষ’। বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, একাধিক পক্ষের সংশ্লিষ্টতায় একটি বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং লুবাবাসহ এই বিয়ের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করেছেন।

সরকার, প্রশাসন ও প্রচারমাধ্যম এ বিষয়ে নীরব রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে জানা যায়, ছোট পর্দার এই মডেল ও অভিনেত্রী মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন। দেশের মূলধারার পত্র-পত্রিকায়ও এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে।

লুবাবার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘সাহসী’ ও ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ বলে প্রশংসা করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে– আইনবিরুদ্ধ কোনও কাজ কি সাহসী বা অনুপ্রেরণাদায়ক হতে পারে? বিয়েটি কীভাবে এবং কোথায় সম্পন্ন হয়েছে, আয়োজনকারী কারা, নিবন্ধন হয়েছে কিনা, কে নিবন্ধন করেছেন, আদালতের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কিনা, অভিভাবকদের ভূমিকা কী ছিল এবং সাক্ষী কারা ছিলেন– এসব বিষয়েও নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। এর নিচে বিয়ে হলে তা বাল্যবিয়ে হিসেবে গণ্য এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিয়ে আয়োজন, অনুমোদন বা নিবন্ধনের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

আইনে বিশেষ ক্ষেত্রে মা-বাবা বা অভিভাবক এবং আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ের সুযোগ থাকলেও, এর জন্য কঠোর শর্ত মানতে হয়। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সেই শর্তগুলো মানা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *