নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যা, বিএমএসএফের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং নিহত সাংবাদিকের পরিবারের নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আলিফ ফকির। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

সাংবাদিক হত্যায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পেশাগত দায়িত্ব পালন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি কিংবা অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে লেখালেখির কারণে কোনো সাংবাদিক হুমকি বা হামলার শিকার হলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকের কলম বা কণ্ঠস্বরকে গুলির মুখে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।

আগের হামলার সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখার আহ্বান

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এর আগেও আলিফ ফকিরকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছিল। আগের হামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছে বিএমএসএফ ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি।

এ ছাড়া, আগের হামলার অভিযোগের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবি

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিক হত্যার পর শুধু শোক প্রকাশ বা সাময়িক অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নিহত সাংবাদিকের পরিবারের নিরাপত্তা, আর্থিক সহায়তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিএমএসএফ ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার জড়িত। অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিককে যেন জীবন দিতে না হয়, সে জন্য রাষ্ট্র, প্রশাসন, গণমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

বিবৃতিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণে রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *