*অবশেষে যোগ্য নেতার মূল্যায়ন করলো এনসিপি! – মাদারীপুর জেলা কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া*

মোঃ খান ই আজম,নিজস্ব প্রতিবেদক

অনেক জল্পনা-কল্পনা ও মতের মিল-অমিলের মধ্য দিয়ে অবশেষে গঠিত হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি – এনসিপির মাদারীপুর জেলা কমিটি।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ১৬ সদস্য বিশিষ্ট এই আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি। নবগঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে মোঃ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান হাওলাদার, সদস্য সচিব ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ ফরহাদ হোসেনকে।

কমিটি প্রকাশের পর থেকেই মাদারীপুরে এনসিপির নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ধার করা নেতা দিয়ে মাদারীপুর জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী –

কমিটির আহ্বায়ক মোঃ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে তুষার ভূঁইয়া বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে সদস্য সচিব ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করেছেন, তিনি শিবচর উপজেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার পক্ষে প্রচারণা করায় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির এক সমর্থক বলেন, “নির্বাচনে দলীয় নমিনেশন না পেলেই যে নেতা রং পাল্টে আরেক দলে যোগ দেন, তার কাছ থেকে আমরা কী আশা করতে পারি? সে তো হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ।”

তাদের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে এনসিপির রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। দুই দলের মতাদর্শের কোনো মিল নেই। তাহলে কী কারণে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনসিপিতে আসলেন? তিনি কি তার ব্যবসা বাঁচাতেই এই ফর্মুলা অবলম্বন করলেন?

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আরেকজন বলেন, “আমার মনে পড়ে মুগ্ধর কথা – ‘পানি লাগবে পানি’। মনে পড়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই আবু সাঈদের কথা। আর যারা তাদের হত্যা করলো, সেই দলের নেতা বা সমর্থকদের নিয়ে এনসিপির কমিটি? আমি হাসবো নাকি কাঁদবো? মাদারীপুরবাসী আপনারা বলেন?”

তাদের মতে, এনসিপির জন্ম হয়েছে জুলাই আন্দোলন থেকে। আর এই জুলাইকে বুকে ধারণ করেই সোনার বাংলা গড়ে তোলার কথা। এনসিপির জন্ম হয়েছে জনগণের জন্য, দেশের জন্য। এনসিপি আর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নীতি এক না, দুটি দুই মেরুর দুটি দল।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, বিভিন্ন দল থেকে আসা নেতাদের সমন্বয়ে যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, এই সকল নেতারা কি তাদের পুরনো দল থেকে পদত্যাগ করেছেন? নাকি সুবিধাবাদের জন্য দুই দলেই থাকবেন যেন আগামী নির্বাচনে যেকোনো একটিতে নমিনেশন পাওয়া যায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *