অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সুসংহত করার আহ্বান শামা ওবায়েদের

নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত, আধুনিক ও অধিকারভিত্তিক করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বুধবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সুসংহত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, অভিবাসন বিষয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অঙ্গীকার, জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের মধ্যে কার্যকর যোগসূত্র স্থাপন করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ পাঠক্রম আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার বহুমুখীকরণ এবং নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। নিজ নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতা ও অভিবাসন পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি অনিয়মিত অভিবাসন, মানবপাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা দিয়েই বিদেশে অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।’ তিনি অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সুসংহত করতে সব অংশীজনের সমন্বয়ে ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’ ও ‘হোল অব সোসাইটি’ প্রক্রিয়ায় কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক অভিবাসীবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রার্থী ও প্রত্যাগত অভিবাসীদের কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন সভা আয়োজনকে স্বাগত জানান। তিনি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন প্রসারে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

 

সভায় অংশ নেওয়া ১৪টি অভিবাসনপ্রবণ জেলার জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ এলাকার অভিবাসন পরিস্থিতি, অভিবাসীদের সুরক্ষাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সুসংহত করার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসকদের অবহিত করেন।

আলোচনায় মাঠপর্যায়ের বাস্তবচিত্রের ভিত্তিতে জাতীয় নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে অভিবাসন বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে পাওয়া শ্রমবাজারের চাহিদা, গন্তব্য দেশগুলোর কর্মী নিয়োগের শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা এবং নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যও জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী চলতি বছর জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরামে উপস্থাপিত বাংলাদেশের বক্তব্য ও অঙ্গীকার এবং অভিবাসন বিষয়ে গন্তব্য দেশগুলোর অবস্থান তুলে ধরেন।

সমাপনী বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক—পূর্ব ও পশ্চিম) রাষ্ট্রদূত ড. মো. নজরুল ইসলাম জানান, সভার আলোচনা থেকে উদ্ভূত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংকলন করবে। পরে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে সমন্বিত ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে তা ব্যবহার করা হবে।

সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) প্রতিনিধি, অভিবাসনপ্রবণ ১৪ জেলার জেলা প্রশাসক, ঢাকায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *