ঈদ শেষ হয়েছে এক সপ্তাহ আগে, কিন্তু রাজধানীর কাঁচাবাজারে এখনো সেই প্রভাব কাটেনি। মাছ, মুরগি, সবজি থেকে শুরু করে মুদি পণ্য—সবকিছুর দামই এখনো তুলনামূলক বেশি। সামান্য ওঠানামা থাকলেও অধিকাংশ পণ্যই ঈদের সময়ের মতোই উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সবজির বাজার চড়া
ঈদের ছুটি শেষ হলেও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই ঊর্ধ্বমুখী।
আজকের বাজারে প্রতি কেজি দেশি টমেটো ৩০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১০০ টাকা, শিম (প্রকারভেদে) ৮০-১০০ টাকা, দেশি শসা ৮০-১০০ টাকা, উচ্ছে ৬০-৮০ টাকা, করল্লা ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৬০ টাকা, দেশি পটল ২৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০- ১০০ টাকা, ঝিঙা ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৯০-১০০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, ধনেপাতা (মানভেদে) ১২০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৫০ টাকা, পেপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০-১০০ টাকা, চাল কুমড়া ৮০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা, বাধাকপি ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০-৫০ টাকা। এছাড়া প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা করে।
এক্ষেত্রে দেখা যায় উপরে উল্লেখিত ৩০টি সবজির মধ্যে ২৬টি সবজির দাম রয়েছে ৫০ টাকার বেশি। যার মধ্যে ১০০ টাকা বা এর বেশি রয়েছে ১১টি সবজির দাম। ক্রেতারা বলছেন সবজির বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই রয়েছে উর্ধ্বমুখী।
সাইফুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা বলেন, ঈদ শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু বাজারে সবজির দাম এখনো কমছে না। হাতেগোনা কয়েকটি বাদে বেশিরভাগ সবজিরই দাম বেশি। এখন রোজা ও ঈদ নেই, তবুও লেবুর হালি ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বিক্রেতাদের কাছে সবজির দাম খুব বেশি বলে মনে হচ্ছে না। তারা একে সামান্য বেশি বলছেন। বিক্রেতারা বলছেন, অনেক সবজি নতুন আসছে বলে এখন দাম সামান্য বেশি। সেটা কমে যাবে।

সহনীয় হলেও বেড়েছে আলুর দাম
বেশ অনেকদিন ধরেই আলুর দাম সহনীয় পর্যায়েই আছে। এখনো দাম সবার নাগালের মধ্যেই আছে। তবে এতোদিন প্রতিকেজি লাল ও সাদা আলু ২০ টাকা করে বিক্রি হলেও হঠাতই বিক্রি শুরু হয়েছে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করে। এছাড়া পেঁয়াজের ও দেশি রসুনের দামও রয়েছে নাগালের মধ্যেই।
আজকে আকার ও মানভেদে পুরান ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। এরমধ্যে ছোট পেঁয়াজ ৩৫ টাকা ও বড় সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা করে। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজিতে। এছাড়া প্রতি কেজি লাল আলু ২৫ টাকা, সাদা আলু ২৫ টাকা, বগুড়ার আলু ৩০ টাকা, দেশি রসুন ৭০-৮০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০-২০০ টাকা, চায়না আদা ১৬০ টাকা, ভারতীয় আদা মান ভেদে ১৫০-১৬০ দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির মাংসের উর্ধ্বমুখী
ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছিলো মুরগির দাম। যা এখনো চলমান রয়েছে। কেবল বয়লার মুরগি ছাড়া অন্যান্য সব মুরগির দামই রয়েছে আকাশছোঁয়া। এছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দামও রয়েছে সব সময়ের মতো আকাশচুম্বী।
আজকে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২৫০ টাকা কেজি দরে। বয়লার মুরগি ১৮৫ টাকা, কক মুরগি ৩৮০- ৩৯০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১০০ টাকা এবং সাদা ডিম ১০০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের সময় বাড়তে থাকা মুরগির দাম এখনো কমেনি। কেবল কিছুটা কমেছে বয়লারের দাম। এছাড়া অন্যসব মুরগির দামি এখনো বেশি।
বি. বাড়িয়া চিকেন হাউজের বিক্রেতা মো. সুলতান বলেন, ‘ঈদের সময় বয়লার বিক্রি করেছি ২২০-২২৫ টাকায়। এখন দাম কমে হয়েছে ১৮৫ টাকা। কিন্তু কক মুরগির দাম কমেনি। আর দেশি মুরগির দাম সব সময় বেশি থাকে। এখনতো ঈদ, তাই দাম আরও বেশি।
এসময় তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় বাড়া দাম শিগগির কমার সম্ভাবনাও কম।

এছাড়া আজকের বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী ইলিশ ১২০০- ৩৮০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০- ৫০০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০- ৬৫০ টাকা, কালিবাউশ ৪০০-৭০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ১০০০-১৮০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪০০ টাকা, কৈ মাছ ২৫০-৩০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-১০০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০-১২০০ টাকা, বেলে মাছ ১২০০- ১৪০০ টাকা, মেনি মাছ ৬০০-৭০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০-১২০০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ১২০০-১৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের দাম নিয়ে বিক্রেতা ইউনুস আলী বলেন, ঈদের পরে মাছের দাম এখনো অনেকটাই বেশি। বর্ষায় নতুন পানি এসে সেটা আবার চলে গেলে দাম কমবে। তাই কোরবানীর আগে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

উচ্চমূল্যেই অপরিবর্তিত মুদি পণ্যের দাম
ঈদের আগে থেকে এখনো পর্যন্ত উচ্চমূল্যেই অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে মুদি দোকানের প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম। তবে এ বছর এলাচির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০০ টাকা, লবঙ্গের দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা, কালো গোল মরিচের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। এছাড়া খোলা ও প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে কেজিতে ১৫-৩৫ টাকা।
আজকে প্রতি কেজি প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ১৭০ টাকা, খোলা পোলাওয়ের চাল মান ভেদে ১২৫-১৫০ টাকা, ছোট মুসরের ডাল ১৫০ টাকা, মোটা মুসরের ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেশারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১১০ টাকা, ছোলা ৮০-৯৫ টাকা মাশকালাইয়ের ডাল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১৪২০-১৫৫০ টাকা, খোলা ঘি ১৪০০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১০৫ টাকা, খোলা চিনি ১০৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৪৫ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচি ৫২০০ টাকা, দারুচিনি ৫৬০ টাকা, লবংগ ১৪৫০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৩৫০ টাকা ও কালো গোল মরিচ ১২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঈদ শেষ হলেও বাজার এখনো ‘গরম’। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ক্রেতারা স্বস্তি না পেলেও বিক্রেতারা আশা করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আগামী দিনে দাম কিছুটা কমতে পারে।