কেন শিক্ষার্থীর ফোন হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেললেন শিক্ষক?

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে ফেলেছেন এক শিক্ষক। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শরীফ হোসেন শিক্ষার্থীদের সামনে হাতুড়ি দিয়ে ফোনটি ভেঙে ফেলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মোবাইলটি মাটিতে রেখে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভাঙছেন। এ সময় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে দেখছিল। ফোনটি ভাঙার সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ওই শিক্ষক বলেন, ‘নেক্সটে ফোন আনতে চাইলে এইটার কথা চিন্তা কইরো।’

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে ৯ সেপ্টেম্বর একটি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে চুল কাটার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে মোবাইল নিয়ে এলে সেটি বিনষ্ট করার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে নোটিশটি সব শিক্ষককে পড়ে শোনানো হয় এবং শিক্ষার্থীদেরও জানিয়ে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী রাখা এবং বিদ্যালয়ে মোবাইলের ব্যবহার বন্ধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর সেটি কার্যকর করতেই শরীফ হোসেন নামের ওই শিক্ষক মোবাইলটি ভেঙে ফেলেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে শিক্ষক শরীফ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ে মোবাইল আনা নিষেধ। এ বিষয়ে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কাছে ফোন পাওয়া যায়। তাই নোটিশ অনুযায়ী ফোনটি প্রকাশ্যে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্য শিক্ষার্থীরা সতর্ক হয়।’

তবে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ওই ‌শিক্ষক মোবাইলটি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে ফেলে ঠিক করেননি। সেটি জব্দ করে অভিভাবকে বিষয়টি জানাতে পারতেন এবং সতর্ক করতে পারতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *