খামেনি-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনাকে ‘অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন।

বুধবার নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যখন সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’ একই সঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় তার ওপর ভিত্তি করে সম্ভবত কোনও এক সময়ে আমাদের দেখা হবে।

তবে লেবাননের একটি গণমাধ্যমে বৃহস্পতিবার রাতে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক এই বৈঠকের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেন। আল মায়াদিন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, আমি একটি প্রতিবেদন দেখেছি যেখানে বলা হয়েছে তিনি (ট্রাম্প) বৈঠকের জন্য প্রস্তুত বা একটি বৈঠক করতে চান। আমি মনে করি আমাদের বাস্তববাদী হওয়া উচিত এবং বাস্তব জগতেই চিন্তা করা ও বসবাস করা উচিত।’

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় পূর্বসূরি ও পিতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর, গত মার্চ মাসে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হন।

আল মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি নতুন সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তার সম্পূর্ণ ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর উপস্থিতি রয়েছে এবং সবকিছুর ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি জানান, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসার মূল কারণ হলো যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা।

গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এই যুদ্ধটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ওই সাক্ষাৎকারে আরও প্রকাশ করেন যে, যে হামলার ঘটনায় আলী খামেনি নিহত হয়েছিলেন, সেই সময় তিনি নিজেও সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের ভেতরেই ছিলেন। তবে তিনি ভবনের অন্য একটি অংশে থাকায় বেঁচে যান।

আলী খামেনিকে হত্যার ওই ঘটনার পর ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। এর জবাবে তারা ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

পরবর্তীতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ এবং সরাসরি আলোচনা চললেও তা এখন পর্যন্ত এই সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে কোনও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা এখনও বিরাজ করছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *