গড়ে তোলা হবে ১০ হাজার নার্সারি উদ্যোক্তা, হবে আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান

আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি এই কর্মসূচির মাধ্যমে সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ লক্ষ্যে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে সরকার।”

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দেশকে শুধু রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবেই শক্তিশালী করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের ভূমিকে আরও বসবাসযোগ্য করে তুলবে।”

তিনি বলেন, “আগামী পাঁচ বছর স্বেচ্ছাশ্রম এবং সরকারি উদ্যোগে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ আমরা হাতে নিয়েছি।”

প্রতি বছর লাগানো হবে ৫ কোটি গাছ 

কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, সেটিকে সফল করার জন্য প্রতি বছর ইনশাআল্লাহ আমরা ৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করতে চাই।”

তিনি জানান, বুধবার সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন উপজেলার স্কুলের সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

গড়ে উঠবে ১০ হাজার নতুন নার্সারি 

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে ঘিরে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই গাছগুলোর জন্য অবশ্যই চারা উৎপাদন করতে হবে। আর সেই চারা উৎপাদনের জন্য আমরা ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”

তিনি বলেন, “এই ১০ হাজার নার্সারিতে ইনশাআল্লাহ প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।”

জলবায়ু মোকাবিলা ও কর্মসংস্থানে জোর 

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই সরকার এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনা, নগর ও বন্দর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারেও সরকার পর্যায়ক্রমে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *