গাজায় শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলা, নারী ও শিশুসহ নিহত অন্তত ৮

ফিলিস্তিনের গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া একটি তাঁবু শিবিরে (শরণার্থী শিবির) ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত আট জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। খবর আল জাজিরা।

আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, শনিবারের এই হামলায় অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, হতাহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার গাজা উপত্যকাজুড়ে চালানো একাধিক ইসরায়েলি হামলার মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। নিয়মিত বোমাবর্ষণের অংশ হিসেবে এদিন উপত্যকার অন্যান্য এলাকাতেও হামলা চালানো হয়।

বিয়ের দিনই প্রাণ গেল যুবকের 

চিকিৎসা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার ভোরের দিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় আরেকটি তাঁবু লক্ষ্য করে পৃথক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হন। অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, ওই দিনই পরবর্তীতে তাঁর বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল।

এছাড়াও গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় একটি শিশু হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি সামরিক ট্যাংক এবং কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে বলে মাটিতে থাকা সংবাদকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন।

স্থবির হয়ে আছে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া

গাজায় এই নতুন করে হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটির ভবিষ্যৎ এবং স্থবির হয়ে পড়া যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে মিশরের কায়রোতে মধ্যস্থতাকারী ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি উপদলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসেছে হামাস।

গত কয়েক মাসে ইসরায়েলের দফায় দফায় হামলার পাশাপাশি, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে এখনো গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চুক্তির প্রথম ধাপে ইসরায়েল কর্তৃক আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তির বিনিময়ে হামাসের কাছে জিম্মি থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। তবে দ্বিতীয় ধাপে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি— যার মধ্যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত ছিল— তা গত কয়েক মাস ধরে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে।

হামাস নেতা কাসেম জানিয়েছেন, কায়রোর এই সপ্তাহের বৈঠকগুলোতে মূলত চুক্তির প্রথম ধাপের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে— ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা, সীমান্ত পারাপারগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া এবং গাজা উপত্যকায় মানবিক সাহায্য প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে গত আড়াই বছরে গাজা উপত্যকায় নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ৭২ হাজার ৯৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ হাজারেরও বেশি কেবলই শিশু এবং একটি বড় অংশ নারী।

এছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। নিখোঁজ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার মানুষের হিসাব ধরলে এই নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *