চীনা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল ইরান

দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে এপ্রিল মাসে বিধ্বস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সম্ভবত চীনা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছিল। এমনটাই দাবি করা হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের সময় চীন ইরানকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তাও দিয়ে থাকতে পারে, যার মধ্যে স্টিলথ যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই সরঞ্জামগুলো মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল-এর মতো উন্নত যুদ্ধবিমানগুলোকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা বাড়িয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবিমানটি ম্যানপ্যাড নামে পরিচিত কাঁধ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। এগুলো মূলত ছোট ও বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা একজন ব্যক্তি নিজের কাঁধে বহন করতে পারেন এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান লক্ষ্য করে ছুড়তে পারেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৭ ফুট লম্বা এবং ওজনে প্রায় ৪০ পাউন্ড হয়ে থাকে।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এর ক্রুদের খুঁজে বের করতে ৩৬ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান চালাতে হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও তদন্ত করে দেখছেন কীভাবে গত এপ্রিল মাসে আমেরিকার এই যুদ্ধবিমানটি গুলি করে নামানো হয়েছিল। এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, কারণ গত কয়েক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম শত্রুভাবাপন্ন কোনও দেশের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ঠিক কবে ইরানকে এই সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিল তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ইরান যদি সত্যিই চীনা তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বেশি সংকটের মুখে ফেলবে। কারণ ওয়াশিংটন বিষয়টিকে ইরানের পক্ষে বেইজিংয়ের পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখতে পারে।

মার্কিন-ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে চীনের সহায়তা আদায়ের চেষ্টা করে আসছেন ট্রাম্প।

এনবিসি নিউজ জানাচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে চীন ইরানকে আরও অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কিছু সাবেক কর্মকর্তা মনে করেন, চীনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ফাঁস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই গোয়েন্দা তথ্যগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকতে পারে, যা পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলোও কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তা করার অভিযোগ এনেছিল। তাদের দাবি ছিল, চীন ইরানকে তাদের স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ সেবা ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে, যা মার্কিন বাহিনীকে ট্র্যাক করতে ইরানকে সাহায্য করতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র চীনের তিনটি স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিল। তবে চীন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, শি জিনপিং ব্যক্তিগতভাবে তাকে আশ্বস্ত করেছেন চীন ইরানে কোনও অস্ত্র পাঠাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *