ডিএনসিসির মশার ওষুধ কেনায় অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অভিযান

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মশক নিধন কার্যক্রমে কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি কেনায় অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই দিনে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগেও পৃথক অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এসব অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

ডিএনসিসির অভিযানে মশার ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনায় অনিয়ম, মানহীন বা কার্যকারিতাহীন কীটনাশক কেনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়। এ সময় সিটি করপোরেশনের ভান্ডার ও ক্রয় বিভাগের আগের বছরগুলোর কীটনাশক ক্রয়সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে দুদক টিম।

প্রাথমিক পর্যালোচনায় একই প্রতিষ্ঠানকে বারবার ক্রয়াদেশ দেওয়া, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাইয়ে পরিদর্শন না করা এবং দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই বাজারদর সংগ্রহ করে প্রাক্কলন তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।

এ ছাড়া ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশার ওপর পরীক্ষা না চালিয়ে কিউলেক্স মশার ওপর পরীক্ষার রিপোর্ট বিবেচনায় নিয়ে কিছু কীটনাশক নির্বাচন করা হয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানতে পারে দুদক। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করেছে এনফোর্সমেন্ট টিম।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রাথমিক অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুদক। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ময়লা সংগ্রহের জন্য সিটি করপোরেশন নির্দিষ্ট কোনও ফি নির্ধারণ করেনি এবং বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সঙ্গে কোনও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বা চুক্তিও নেই। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন হারে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

এদিকে জালালাবাদ গ্যাসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮২০ টাকা সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে সিলেটে অভিযান চালিয়েছে দুদক। এ সময় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়।

দুদক জানায়, প্রাথমিকভাবে নথিপত্র পর্যালোচনায় নগদ অর্থ গ্রহণ, লেজারে ভুয়া পোস্টিং, বিকাশের বিল জাল করে রাজস্ব সফটওয়্যারে পোস্টিং এবং নিজস্ব আইডি ব্যবহার করে ভুয়া পোস্টিংয়ের মাধ্যমে ওই অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের অভিযানে সংগৃহীত নথি ও নমুনা আরও যাচাই করে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *