‘দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হয়। দেশের যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই তারা কথা বলবেন।”
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে শিল্পকলা একাডেমিতে টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বশীলদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেও কোনও সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’— এমন কথা বলে আমাদেরকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় অনেক লোক মারা গেছেন না খেয়ে। তখন লাশ রাস্তায় পড়ে থাকতো। সেই রকম একটা অবস্থা পার করে এসেছে এই দেশ।”
চব্বিশের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “ওই সময়ের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।” গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। জ্বালানি ও বিদ্যুত সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন আরও কমতে থাকলে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্যখাত থেকে কাটছাঁট করে শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, “প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেছিলেন, চার-পাঁচ মাসে কোনও পরিবর্তন হয়নি, বরং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে।”
এ বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “এটা আমার কথা নয়, এটা মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের কথা।”
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমির আধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, ইফসুর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, এনসিপির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, বায়তুল মাল সেক্রেটারি আহসান হাবিবুল্লাহ দেলোয়ার, জেলার কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ তালুকদার, ড. আতাউর রহমান, ওবায়দুর রহমান কোরাইশী, শহর আমির মিজানুর রহমান চৌধুরী, সদর আমির ইকবাল হোসাইন বাদল, জেলা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম খান প্রমুখ।