প্রতিটি মানুষের কথা মাথায় রেখেই আসছে নতুন বাজেট: অর্থমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর পাশাপাশি উন্নয়নের সুবিধা সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেই আগামীর বাজেট দেওয়া হচ্ছে। বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। একইসঙ্গে বাজেটের সুফল যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে উন্নয়নের সুফল কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এর সুবিধা ভোগ করবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাজেটে বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের অর্থনীতিকে যে ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে পরিচালিত করা হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এখন উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোনও বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশকে ঋণনির্ভরতা থেকে বের করে আনতে হবে। অর্থনীতির টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে উৎপাদনশীল খাতের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই নতুন বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা আস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারবেন। বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির সামগ্রিক গতি আরও শক্তিশালী হবে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অর্থনীতি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সমস্যার প্রভাব বিভিন্ন খাতে রয়ে গেলেও সরকার ধারাবাহিকভাবে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নতুন বাজেট দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি, উৎপাদনশীল খাতের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

দেশকে ভবিষ্যতে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নতুন গতি সঞ্চার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, নতুন বাজেট শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরির দিকেও সমান গুরুত্ব দেবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আগামী বাজেটকে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা হিসেবে দেখছে সরকার বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *