ফরিদপুরে মা-মেয়েসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরে এক যুবকের বিরুদ্ধে নিজের দাদি-ফুফুসহ তিন জনকে কোদাল দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা (৪০) গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার ছেলে। হত্যার শিকার তিন জন হলেন আকাশ মোল্লার দাদি আমেনা বেগম (৭৫), ফুফু সালেহা বেগম (৫৫) ও প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী (৪৯)। কাবুল চৌধুরী ওই গ্রামের সুলতান আহমেদের ছেলে। তিনি পেশায় রিকশাচালক। তার স্ত্রী ও তিন সন্তান আছে।

এ ঘটনায় রিয়াজুল ইসলাম (৩৮) ও আরজিনা বেগম (৩৮) নামের দুজন আহত হয়েছেন। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আকাশ পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।’

আলিয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রাজ্জাক শেখ বলেন, সোমবার রাত ১০টার দিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আকাশ তার দাদি ও ফুফুকে হত্যা করে। এ সময় মারধর ঠেকাতে এলে প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরীকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। বাঁচাতে এসে আরও দুই প্রতিবেশী আহত হয়েছেন।

ইউপি সদস্য রাজ্জাক শেখ আরও বলেন, ‘আকাশ একসময় ফরিদপুর যক্ষ্মা হাসপাতালে পিয়ন পদে কর্মরত ছিলেন। মানসিকভাবে অস্থির প্রকৃতির ছেলে। এজন্য তাকে বিয়েও দেওয়া হয়নি। এক আত্মীয় তাকে স্বাস্থ্য বিভাগের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়ে দিয়েছিলেন। যখন তার মাথা নষ্ট হতো, সে অফিসেও যেতো না। আবার যখন ভালো থাকতো, স্বাভাবিক মানুষের মতোই আচরণ করতো। মাঝেমধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যায়। আজও সেরকম হয়ে ঘটনাটি ঘটায়। তবে কী নিয়ে ঘটেছে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।’

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *