বিজেপির শান্তির আহ্বানেও অশান্তি: নিউ মার্কেটে বুলডোজার, স্কুলবাসে ‘জয় শ্রী রাম’

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহিংসতা ও উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিজেপির শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে শান্তি ও সংযমের বারবার আবেদন জানানো হলেও হুমকি, হামলা ও নিহতের ঘটনা থামছে না। সোমবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যে অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে।

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে একদল ব্যক্তি বুলডোজার (জেসিবি) ব্যবহার করে তৃণমূলের একটি কার্যালয়সহ পাশে থাকা একটি মুরগির দোকান ও শিশুদের পোশাকের দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ওরা ছিল লুটেরা। নতুন শাসক দলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ওরা গায়ের শার্ট বদলে নিয়েছে।

এমনকি কলকাতায় বুধবার সকালে শহরের একটি পরিচিত বিদ্যালয়ের স্কুলবাসের সহকারী শিশুদের ‘জোরপূর্বক’ ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।

নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা এবং পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা শুভেন্দু অধিকারী শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কারও সহিংসতায় জড়ানো উচিত নয়। এটাই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে পার্থক্য। প্রকৃত পরিবর্তন স্বচ্ছ হওয়া উচিত। প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ পালনের অধিকার আছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।

একইভাবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনও কর্মী সহিংসতায় জড়িত থাকলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি বলেন, আমরা বাংলার রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে চাই।

মঙ্গলবার রাতে কলকাতার ভবানীপুরে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। ৮২ বছর বয়সী এই নেতা জানান, ১০ জন লোক এসে আমাকে গালিগালাজ করে। যে লোকটির নেতৃত্বে ওরা এসেছিল, সে কয়েক বছর আগে আমার অধীনেই কাজ করত। সে হুমকি দিয়েছে, আমি বাড়ির বাইরে বেরোলে আমাকে মেরে ফেলবে। এই ঘটনায় তিনি কালীঘাট থানায় অভিযোগ করেছেন। আতঙ্কে তিনি তার নাতনিকে স্কুলে পাঠাননি এবং তার ছেলেও কাজে যাননি।

সহিংসতা দমনে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এর পরপরই কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, শহরে এ পর্যন্ত ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শহরে বুলডোজার বা জেসিবি নিয়ে কোনও মিছিল করা যাবে না। কেউ যদি ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেসিবি মালিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা এ ধরনের কাজে গাড়ি ভাড়া না দেন।

এছাড়া বীরভূমের নানুরে এক তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার নাজাতে দুপক্ষের গোলাগুলিতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা তুলতে বাধা দেওয়ায় নিজের দলেরই এক নেতার ওপর হামলা চালিয়েছে একদল বিজেপি সমর্থক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতির শান্তির বার্তার নিচে এক ব্যবহারকারীকে প্রশ্ন করতে দেখা গেছে, আমরা কি ওদের একটুও মারতে পারব না?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *