মেসি পেরেছেন পারেননি রোনালদো!

বার বার আক্ষেপে পুড়ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। কঙ্গোর ডি বক্সে ঘোরাফেরা করেও কাঙ্ক্ষিত গোলের সন্ধান পাননি।  গোল না পেয়ে হতাশ মুখচ্ছবি বারবরই দেখা যাচ্ছিল।  হিউস্টন স্টেডিয়ামে পর্তুগালের শুরুটা হয়েছে পয়েন্ট খুইয়ে। যেখানে ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ৯০ মিনিট মাঠে থেকে প্রতিপক্ষের রক্ষণবুহ্য ভেদ করে আনন্দে মাততে পারেননি৷  শুধু আজ নয়, বিশ্বকাপে রোনালদো খেলছেন সেই ২০০৬ সাল থেকে। এবার নিয়ে ষষ্ঠবার। এর মধ্যে চারবারই নিজেদের শুরুর ম্যাচে সিআর সেভেনকে গোলছাড়া থাকতে হয়েছে!

এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে অ্যাঙ্গোলা,২০১০ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্ট ও ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানি বিপক্ষে গোল না করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তিকে। শুধু ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই অনবদ্য হ্যাট্রিক করেছিলেন। আর সবশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে  ঘানার বিপক্ষে  পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন।

আজ হিউস্টনে সতীর্থরাও তাকে দিয়ে গোল করানোর চেষ্টা করে সফল হননি। কোনও সময় লক্ষ্যে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি।  আবার কঙ্গো ডিফেন্ডারদের ট্যাকলিংয়ে খেই হারিয়েছেন। রোনালদোর সেই জোরালো হেড কিংবা অ্যাক্রোবেটিক শট যেন অনেকটাই ছিল ছায়া হয়ে।

ডিফেন্ডারদের মাঝে বার বারই জায়গা করে নিয়ে গোলের শুলুকসন্ধানে থেকেও বিধাতা তাকে খালি হাতে মাঠ ছাড়া করেছেন।  হতাশার মুখচ্ছবিটা তাই টেলিভিশনের পর্দায় বারবাই ফুটে উঠছিল। এমনিতে বড় দলগুলো উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে শুরুতে হোঁচট খাচ্ছে।  স্পেন,উরুগুয়ে,বেলজিয়াম ও ব্রাজিল তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। তাদের কাতারে আরও একটি নাম যোগ হলো, পর্তুগাল!

আর যদি খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বললে  বিশেষ করে  লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করলে এবার  একদম বিপরীত চিত্র।  মেসি ৩৮ বছর বয়সে শুধু ঝলক দেখাননি। হ্যাট্রিক করে সবাই কে চমক দেখিয়েছেন। অনেকেই ভাবেননি ক্যারিয়ারের শেষ দিকে  এসে মেসি হ্যাট্রিক করবেন। আলজেরিয়াকে একাই ধসিয়ে দেবেন। তার পারফরম্যান্স মনে করিয়ে দিচ্ছিল তরুণ বয়সী মেসির!

কানসাসের মাঠে আর্জেন্টিনা যেন দুহাত ভরে সমর্থকদের দিয়েছে।  মেসি একাই সবার প্রত্যাশার চাপ সামলে প্রথম ম্যাচে সবকিছু জয় করে নিয়েছেন।  মেসির পর সমর্থকরা যার দিকে তাকিয়েছিলেন সেই রোনালদো নিজের ছায়া থেকে বের হতে পারেননি।  মাঠে থেকে শুধু আক্ষেপই করেছেন। সমর্থকরা বার বার প্রেরণা জোগালেও বিধাতা মুখ তুলে তাকাননি।

মেসি ও রোনালদোর মধ্যে তুলনাটা এখন অনেক পুরনো।   ক্লিশেও। কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পারফরম্যান্স বিচারে মেসি এগিয়ে রয়েছেন শতগুণ। রোনালদো সেখানে ব্যাকবেঞ্চার।

সামনের ম্যাচে তাই রোনালদোকে নতুন করে শুরু করতে হবে। সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ সামলে দেখাতে হবে মুন্সিয়ানা।  সেই  ক্ষিপ্রগতির পারফরম্যান্সে গোলও। অন্তত ট্রফির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া। তাহলেই সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের শেষের শুরুর ম্যাচগুলো হবে স্মরণীয়। যেমনটা শুরু হয়েছে লিওনেল মেসির!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *