যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে রাতারাতি এক বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে গেছে। স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যে, লেবার সরকার এখন তাদের অভিবাসন কৌশল পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য হচ্ছে। নির্বাচনে প্রায় অর্ধেক আসন হারানো স্টারমার প্রশাসন অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে এবং ভোটারদের ক্ষোভ কমাতে পূর্বের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২৫ জনের বেশি জ্যেষ্ঠ এমপি পদত্যাগের দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। তার এই পরিকল্পনার অন্যতম সহযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। বার্মিংহাম লেডিউডে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয় এবং রিফর্ম ইউকে-এর উত্থান প্রমাণ করে যে, জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষায় শাবানা মাহমুদকে অভিবাসন নীতিতে কিছুটা নমনীয় হওয়ার পরামর্শ দিতে হতে পারে।
যদি স্টারমার পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, তবে পরবর্তী নেতৃত্বের দৌড়ে থাকা অ্যাঞ্জেলা রায়নার, ওয়েস স্ট্রিটিং কিংবা অ্যান্ডি বার্নহামের হাত ধরে অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। রায়নার ক্ষমতায় এলে পারিবারিক ভিসার আয়ের শর্ত শিথিল হতে পারে। অন্যদিকে, স্ট্রিটিং এনএইচএস-এর কর্মী সংকট মেটাতে স্বাস্থ্য খাতের ভিসায় কড়াকড়ি কমাতে পারেন। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে অ্যান্ডি বার্নহামের হাত ধরে; তিনি আঞ্চলিক চাহিদা অনুযায়ী ভিসা প্রদানের ক্ষমতা লন্ডনের হাত থেকে মেয়রদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করতে পারেন।
নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে-এর অভাবনীয় সাফল্য ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। তাদের ‘নেট জিরো’ অভিবাসন নীতি এখন মূলধারার রাজনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দুই বছরে দলটি ক্ষমতায় এলে গ্র্যাজুয়েট ভিসা রুট পুরোপুরি বাতিল এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত থেকে যুক্তরাজ্যকে সরিয়ে নেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ (আইএলআর) এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক সংকট মেটাতে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীলদের নিয়ে আসার নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহারের কথা ভাবছে সরকার। এ ছাড়া দক্ষ কর্মীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের ১০ বছরের দীর্ঘ পথ পুনরায় কমিয়ে ৫ বছর করার পরিকল্পনা এবং বেতন সীমার ক্ষেত্রে নমনীয়তা প্রদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন এখন আর কেবল নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়, বরং তা অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও ডানপন্থিদের উত্থানের মুখে অভিবাসনের নিয়মগুলো এখন সময়ের তাগিদেই নতুন করে বিবেচনার মুখে পড়েছে।