যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির বৈধতা নিয়ে রিট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) বৈধতা নিয়ে রিট হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে আজ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) সই হয়। এই চুক্তি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। রিট আবেদনকারী হলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম। তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।

চুক্তিটি সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস প্রথম আলোকে বলেন, আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির টুঁটি চেপে ধরার মতো ব্যবস্থা। কেননা, চুক্তিতে বাংলাদেশের ১৩১টি বিষয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ৬টি বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। চুক্তিটি শুধু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্যই নয়; বরং বৃহত্তর জনসাধারণের জন্যও ক্ষতিকর। চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। মূলত এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়। বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি আগামীকাল উত্থাপন করা হবে।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় চুক্তির বিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক লিখিত নোটিফিকেশন ইস্যু এবং আদান–প্রদান কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। রিটে পররাষ্ট্র, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *