রানার গতি ঝড়ে ৮ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার

নাহিদ রানার গতি ঝড়ে পুরোপুরি খেই হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ এখন জয়ের সুবাস নিচ্ছে। জশ ইংলিসের আউটে তৃতীয় উইকেট পতনের পর কনোলিকে (৩৫) ফেরান মোসাদ্দেক হোসেন। তার পর জুটি গড়ে আশা জাগাচ্ছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি- ক্যামেরন গ্রিন। ৩৭ রানের এই জুটি ভেঙে ইনিংসে ধস নামান নাহিদ রানা। ক্যারিকে ৪৭ রানে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে গ্লাভসবন্দি করান তিনি। তার পর দ্রুত সময়ে মোসাদ্দেকের বলে এলবিডাব্লিউ হন ম্যাট রেনশ। এর পর তো রানার গতিতে দ্রুত বিদায় নেন লিয়াম স্কট (২) ও জেভিয়ার বার্টলেট (১)। রানার চতুর্থ শিকারে অস্ট্রেলিয়া ১৪০ রানে আট উইকেট হারিয়েছে।

বল হাতে দারুণ শুরু বাংলাদেশের

২৮৫ রানের লক্ষ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে প্রথম দুই ওভারেই তুলে নেয় দুই উইকেট। প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ওপেনার ম্যাথু শর্ট (০)। তাসকিনের ডেলিভারি সামলানোর কোনও উপায় জানা ছিল না তার। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের আঘাতে এলবিডাব্লিউ হন মার্নাস লাবুশেন (১)। শুরুতে আম্পায়ার সাড়া দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নেওয়াতে মেলে সাফল্য।

শুরুর ধাক্কার পর ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করছিলেন জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি। ৪৯ রান যোগ করেন তারা।  ১১তম ওভারে এসে ইংলিসকে (১৯) লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করান নাহিদ রানা। তাতে ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে অজি দল।

১৪ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৭৪ রান। ক্রিজে আছেন অ্যালেক্স ক্যারি (১৮) ও কুপার কনোলি (২৭)।

অজিদের ২৮৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ

তানজিদ হাসান (৫৪) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৬৭) শুরুর ভিত গড়ার পর ছন্দপতন ঘটেছিল ইনিংসে। শান্তর বিদায়ে ১৪০ রানে পতন হয় চতুর্থ উইকেটের। তার পর পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়ে দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যান মূলত তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। দলের স্কোর দুইশ ছাড়ান তারা। এই জুটিতে যোগ হয় ৭৫ রান। হৃদয় ৩১ রানে আউট হলেও দলকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে ভালো স্কোর পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ৪ বছর পর ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন। তার ৭০ বলে ক্যারিয়ারসেরা ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে প্রথম ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেকের আগ্রাসী ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদও ১৬ বলে ২০ রানের কার্যকরী ইনিংসে ভূমিকা রাখেন। তাতে চিল ২টি চার ও ১টি ছক্কার মার। শেষ দিকে মোসাদ্দেক-তাসকিনের অষ্টম উইকেট জুটিতে যোগ হয়েছে ৩৩ বলে ৪৫ রান।

৪ বছর পর ফিরেই ৮৬ রানের ইনিংস খেলেছেন মোসাদ্দেক।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩৮ রানে ৩টি উইকেট নেন নাথান এলিস। দুটি করে নেন লিয়াম স্কট ও ম্যাট রেনশ। একটি নিয়েছেন জেভিয়ার বার্টলেট।

সাজঘরে লিটন-শান্ত

খণ্ডকালীন অফস্পিনার ম্যাট রেনশর জোড়া আঘাতে কিছুটা ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৩০ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬৭ রান।

লিটন দাস ৯ বলে ৭ রান করে রেনশর বলেই ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন। এরপর সেট ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তও তার শিকার হন। ৮৬ বলে ৬৭ রান করা শান্তকে ক্যাচে পরিণত করেন কুপার কনোলি।

ফিফটি করেছেন তানজিদ।

 

ফিফটির পরই আউট তানজিদ

প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১০ রানে সাইফ হাসানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তার পর জীবন পেয়েছেন নতুন ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ভালো সূচনা এনে দিয়েছে শান্ত-তানজিদ হাসান জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের জুটিতেই বাংলাদেশ একশ ছাড়িয়েছে। সপ্তম ফিফটি তুলে নেন তানজিদ হাসান। অবশ্য ফিফটি করার পরই ৫৪ রানে নাথান এলিসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। তাতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায় ১০৬ রানে। অপরপ্রান্তে নাজমুল হোসেন শান্তও ফিফটির দেখা পেয়েছেন। ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১২০ রান। শান্ত ব্যাট করছেন ৫৬ রানে, লিটন দাস ৪ রানে ক্রিজে রয়েছেন।

বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ফিরেছেন মোসাদ্দেক

২০১১ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে অবশ্য টস ভাগ্য সহায় হয়নি মেহেদী হাসান মিরাজের। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বেলা ১১টার ম্যাচে টস জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশকে শুরুতে তারা ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে।

৪ বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়েই একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। দলে দুই অফস্পিনিং অলরাউন্ডার সহ তিন স্পিনার রয়েছে। রয়েছে তিন পেসার। অপরদিকে অজিদের হয়ে লিয়াম স্কটের অভিষেক হচ্চে।

বাংলাদেশ দল: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: অস্ট্রেলিয়া একাদশ: জশ ইংলিস (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, লিয়াম স্কট, ম্যাট শর্ট ও অ্যাডাম জাম্পা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *