শিবচরে ভয়াবহ লোডশেডিং।

শিবচরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ, দুর্ভোগে লাখো মানুষ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় পৌর এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্র দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, কৃষি কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবচর পৌর এলাকায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর নিয়মিত লোডশেডিং করা হলেও গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পরই আবার চলে যায়। আবার কোনো কোনো এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে ফ্যান কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

ফলে মানুষকে অসহনীয় গরমে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরাও। স্থানীয় ভ্যানচালক রফিক বলেন, “রাতে ঠিকমতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। সকালে বের হলেও দুপুরের আগেই ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। আগে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো, এখন ৩০০ টাকাও হয় না। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এদিকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। গরমে রোগীদের কষ্ট বেড়ে গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খবির মিয়া বলেন, “হাসপাতালে সুস্থ হতে এসেছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে দম বন্ধ হয়ে আসে। অসুস্থ মানুষের জন্য এটা খুবই কষ্টের। শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে বাধ্য হয়ে এলাকাভিত্তিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিবচর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, “শিবচরে বিদ্যুতের চাহিদা ৩৫ মেগাওয়াট হলেও আমরা পাচ্ছি মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। তবে জনভোগান্তি কমিয়ে আনতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিনের এই দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং লোডশেডিং কমিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *