‘২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন রক্ষা করতে পেরেছি’

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের এই জয়ের পর বাধভাঙা উল্লাসে মেতেছে রোনান, মুর্শেদ ও মাহিনরা। ট্রফি ধরে রেখে ২০ কোটি মানুষের আস্থার প্রতিদান দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলের লড়াকু মানসিকতার কথা তুলে ধরেন অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী। চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি এই ট্রফিটি তার এক বন্ধুকে উৎসর্গ করেছেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মিঠু বলেন, “আমি চার বছর ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। আল্লাহ আমাদের তা দিয়েছেন। তবে আজ আমি আমার বন্ধু আশিককে খুব মিস করছি। ও থাকলে আজ অনেক খুশি হতো; আমি এই ট্রফিটি তাকেই উৎসর্গ করতে চাই।”

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ভারতের প্রথম শটটি অসামান্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মাহিন। ঘরোয়া ফুটবলে মোহামেডানের এই অতন্দ্র প্রহরী ম্যাচ শেষে বলেন, “অনুভূতিটা অসাধারণ। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমরা ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন ও বিশ্বাস রক্ষা করতে পেরেছি।”

মালেতে খেলা হলেও গ্যালারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গগণবিদারী চিৎকারে মনেই হয়নি যে এটি বিদেশের মাটি। সমর্থকদের প্রশংসা করে অধিনায়ক মিঠু বলেন, “ফ্যানরা আমাদের অভাবনীয় সমর্থন দিয়েছেন। তাদের এই ভালোবাসার কারণেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি ফ্যান চাইবো এবং আরও শিরোপা জিততে চাই।”

ফরোয়ার্ড মুর্শেদ আলী জয়ের পর বলেন, “খুবই এক্সাইটেড আমি! কি বলবো বুঝতে পারছি না। এখন শুধু দেশবাসীর সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি।” আরেক ফুটবলার আব্দুল রিয়াদ ফাহিম বলেন, “এটি আমাদের স্বপ্নের ফাইনাল ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। এই জয় আমরা পুরো দেশবাসীকে উৎসর্গ করলাম।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *