৪ ঘণ্টার পথ ১৬ ঘণ্টায়

এবার ঈদযাত্রায় শেষ দিকে পথে যানজট কম হবে ভেবে ঢাকা থেকে বুধবার রাত ১১টায় পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন জাকির হোসেন। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ঠিক সময়ে বাসের যাত্রা শুরু হলেও আমিনবাজার পার হতেই ধীরগতি শুরু হয়। এরপর সাভার, বাইপাইল, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, যমুনা সেতু এবং সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। সচরাচর গন্তব্যে যেতে ঢাকা থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু পথে পথে যানজটে আটকে ছিলেন জাকির। শেষমেশ ১৬ ঘণ্টা শেষে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকাল ৩টায় পাবনায় পৌঁছান তিনি।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দৈনিক কালবেলার অনলাইন এডিটর মিজানুর রহমান সোহেল। বৃহস্পতিবার বিকালে ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে পাবনায় পৌঁছালাম। পাঁচ ঘণ্টার রাস্তায় সময় লেগেছে ১৬ ঘণ্টারও বেশি। বিগত কয়েক বছরের ঈদযাত্রায় এমন ভোগান্তি হয়নি।’

ঈদের শেষ ছুটিতে ঢাকা থেকে পাবনায় ফিরতে যানজটে এমন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন কমবেশি প্রায় অনেকে। সাধারণত চার কিংবা যানজট থাকলে পাঁচ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে পাবনায় আসা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সেই পথে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা কেটেছে অনেকের। এতে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বাসে বসে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন।

ঢাকা থেকে পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে নামা এমন ভুক্তভোগী কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিনিধি। তারা জানিয়েছেন, গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ঠিক সময়ে বাসের যাত্রা শুরু হলেও আমিনবাজার পার হতেই ধীরগতি শুরু হয়। এরপর সাভার, বাইপাইল, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, যমুনা সেতু এবং সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে যানজট সবচেয়ে তীব্র হয়। টাঙ্গাইল অংশে যমুনা সেতুর পূর্ব-পশ্চিম পাড়ে এবং কড্ডার মোড়ে ১৫-২০ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের লম্বা সারি তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকছে যাত্রীবাহী বাসগুলো। এতে কমবেশি সবাই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

পাবনা সদরের কাপড় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে সব মিলিয়ে ১৪ ঘণ্টা লেগেছে আমার। এলেঙ্গায় এসে গাড়ি পুরোপুরি থেমে যায়। বাসে বসতে বসতে হাত-পা অবশ হয়ে গিয়েছিল। এমন ভোগান্তির শিকার আর হইনি।’

দুর্ভোগের কথা জানিয়ে আটঘরিয়া উপজেলার গৃহিণী সাবিনা ইয়াসমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ ভোর ৪টায় রওনা দিয়ে শিশুসন্তানকে নিয়ে ১৪ ঘণ্টা যানজটে বসে থেকে পাবনায় পৌঁছেছি। আরও দুই ঘণ্টা লাগবে বাড়ি যেতে। দীর্ঘ সময় বাসে থাকায় পানি ও খাবারের সংকটে দুটি শিশুসন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা থেকে পাবনায় পৌঁছাতে ১৫ ঘণ্টা লেগেছে আমার। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাসে আসতে হয়েছে। কিন্তু যানজটে এত সময় বসে থাকা খুব কষ্টের।’

চাটমোহরের বাসিন্দা শামসুন্নাহার ঢাকা থেকে মিনি ট্রাকে এসেছেন পাবনায়। তিনি বলেন, ‘ট্রাক ছোট হওয়ায় চিপাচাপা সড়ক দিয়ে এসেছে। তাও ৯ ঘণ্টা লেগেছে। পুরোটা সময় দাঁড়িয়ে থাকায় শরীর ব্যথায় অবশ হয়ে গেছে।’

যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের লম্বা ছুটির কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ অতিরিক্ত। চালকদের বেপরোয়া ওভারটেকিং, রাস্তার কিছু অংশ সরু হওয়া এবং কড্ডার মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা এই যানজটের মূল কারণ। পুলিশের পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় চালকরা এলোমেলোভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। এতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *