যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা এখন কানাডার ‘দুর্বলতা’: মার্ক কার্নি

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক একসময় তাদের জন্য বড় শক্তি ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা ‘দুর্বলতা’য় পরিণত হয়েছে, যা সংশোধন করা জরুরি। ১০ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় কার্নি কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক ও বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্য নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে এবং শুল্কের হার এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা মহামন্দার সময় দেখা গিয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের কারণে অটোমোবাইল ও ইস্পাত শিল্পের শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন কার্নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে যেসব বিষয় আগে শক্তি ছিল, এখন তা দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে। এই দুর্বলতাগুলো আমাদের অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করতে দ্বিধা করছেন। এছাড়া কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কানাডার সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কথাও উঠে আসে কার্নির আলোচনায়।

অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দিয়ে কার্নি বলেন, কানাডার নাগরিকদের জন্য বাস্তব ঝুঁকিগুলো উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা নিজেদের যত্ন নিতে বাধ্য, কারণ আমরা কোনও একক বিদেশি অংশীদারের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারি না। প্রতিবেশীর কাছ থেকে আসা অস্থিরতা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তবে আমাদের এখানে কী ঘটবে, তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

কার্নি কানাডার ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সক্ষমতা দ্বিগুণ করা, দেশের অভ্যন্তরে বাণিজ্যের বাধা কমানো, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো, কর হ্রাস এবং আবাসন ব্যবস্থা সাশ্রয়ী করার কথা জানান। তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের জন্য একটি শক্তিশালী দেশ গড়তে হবে, যা বাইরের অস্থিরতা সহ্য করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কার্নি বলেন, কানাডা সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের একজন ভালো প্রতিবেশী ছিল এবং আফগান যুদ্ধসহ দুটি বিশ্বযুদ্ধে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন বদলে গেছে এবং আমাদেরও সেই অনুযায়ী সাড়া দিতে হবে। এটি আমাদের নিরাপত্তা, সীমান্ত এবং ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াই।

কার্নি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে—শুধু এই আশায় বসে থাকা কোনও কার্যকর কৌশল নয়। তার ভাষায়, ‘আশা কোনও পরিকল্পনা নয় এবং নস্টালজিয়া কোনও কৌশল হতে পারে না।

এদিকে, দেশটির বিরোধী রক্ষণশীলরা তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির দাবি জানাচ্ছেন। এ বছরের জুলাইয়ে উত্তর আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (নাফটা) বর্তমান সংস্করণ পর্যালোচনার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে শক্তিশালী দেশগুলোর অর্থনৈতিক জবরদস্তির নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন কার্নি। সেই সময় তার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘কানাডা টিকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কারণে। মার্ক, পরেরবার বিবৃতি দেওয়ার সময় এটি মনে রেখো।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *