পাঁচ বছর ও ২৮ দিন বয়সী সন্তানকে পৌনে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করলেন বাবা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে অপহৃত দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশু দুটির বাবাসহ মানবপাচার চক্রের তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। পিবিআই বলছে, ‘দুই শিশুর বাবা অর্থের লোভে মানবপাচার চক্রের কাছে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকায় তাদের বিক্রি করেছেন।’

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অপহৃত দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- অপহৃত শিশুদ্বয়ের পিতা মেজবাহ উদ্দিন, তার সহযোগী এমদাদুল হক রাব্বানী ও নুর-ই-নাসরিন। তারা সবাই মানবপাচার চক্রের সদস্য।

উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলেন- আরিয়ান (৫) ও আব্দুর রহমান জুবায়েত (২৮ দিন)। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরিয়ান (৫) ও আব্দুর রহমান জুবায়েত (২৮ দিন) নামে দুই সন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ উদ্দিন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি শুরু করে। এর পাশাপাশি তার স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করতেন এবং টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকায় বাসা থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ান ও ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের মা ঝর্না আক্তার তার স্বামী মেজবাহ উদ্দিন ও এমদাদুল হক রব্বানীসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে গত ১৩ মে বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অভিযান চালিয়ে গত ১৮ মে  ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে মূল আসামি এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের আড়াপাড়া নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে অপর শিশু আরিয়ানকে উদ্ধারসহ মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পল্লবী থানার একটি বাসা থেকে নূর-ই-নাসরিনকে গ্রেফতার ও তার হেফাজত থেকে ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে শিশুদের বাবা মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

পিবিআই তদন্তে জানতে পারে, গ্রেফতার এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানবপাচার চক্রের সদস্য হিসেবে জড়িত রয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করতেন। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক শিশুপাচারের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব কারণে তার অর্থের প্রয়োজন মেটাতে এবং দ্রুত টাকা লাভের উদ্দেশে সে নিজের দুই সন্তানকে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের কাছে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *