জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বাপেক্সকে শক্তিশালী করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “অতীতে জ্বালানি খাতকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। বর্তমান সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল-জ্বালানির মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাপেক্সকে শক্তিশালী করে দেশেই গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে।”

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘জ্বালানি খাতকে পুরোপুরি আমদানিনির্ভর করা হয়েছিল’  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জ্বালানি খাত ফ্যাসিবাদের শাসনামলে সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল।” তিনি বলেন, “আমাদের তেল-গ্যাস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, কিন্তু আপৎকালীন সময়ের জন্য যে পরিমাণ মজুত রাখা প্রয়োজন, সে বিষয়ে কোনও নজর দেওয়া হয়নি। ফলে আগে মাত্র ৩০ দিনেরও কম জ্বালানির মজুত আমাদের হাতে থাকতো।”

জ্বালানির মজুত ৪৫ দিনে উন্নীত 

সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত তিন মাসে আমরা কাজ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে জ্বালানির মজুত এখন ৪৫ দিনের বেশি পর্যায়ে নিয়ে গেছি। ইনশাআল্লাহ এটিকে ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”

১৭ বছর পর বাপেক্সকে সক্রিয় করার উদ্যোগ 

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের বাপেক্সকে কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া হয়নি কাজ করার জন্য। সম্পূর্ণভাবে বিদেশিদের হাতে এটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার বাপেক্সকে সক্রিয় করে আবার গড়ে তুলছে। তাদের জন্য রিগ আমদানি করা হচ্ছে এবং তারা নিজেরাই গ্যাসকূপ খনন করবে। নতুন গ্যাসকূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো ক্ষেত্রগুলোতেও গ্যাস অনুসন্ধান করবে।”

বিদ্যুৎ খাতে ‘হরিলুটের’ অভিযোগ 

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত স্বৈরাচারের সময় বিদ্যুৎ খাতকে নিজেদের পকেট ভারী করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। দেড় দশকে বিদ্যুৎ খাত থেকে কমপক্ষে তিন লাখ কোটি টাকা হরিলুট হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কুইক রেন্টালের নামে এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হলেও জনগণ তার সুফল পায়নি।”

জ্বালানি নিরাপত্তায় দেশীয় সক্ষমতার ওপর জোর 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের লক্ষ্য শুধু জ্বালানি আমদানি করা নয়, বরং দেশীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এজন্য বাপেক্সকে আরও কার্যকর ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং ধাপে ধাপে বিদেশি নির্ভরতা কমানো হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *