ডেস্কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ? শরীরের ঝুঁকি বুঝতে ও কমাতে যা করবেন

সকাল থেকে সন্ধ্যা কম্পিউটারের সামনে বসেই কেটে যায় কর্মজীবনের বড় একটা অংশ। কাজের চাপ, মিটিং, টার্গেট কিংবা ব্যস্ততার কারণে অনেকেরই ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেয়ার ছেড়ে ওঠার সুযোগ হয় না। শুধু অফিস নয়, ব্যাংক, সরকারি দপ্তর কিংবা বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। নিয়মিত এমন জীবনযাপন শরীরের জন্য ভালো নয়। দীর্ঘ সময় শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, বিপাকীয় সমস্যা ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের নানা ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।

তাই শুধু কাজের ফাঁকে একটু হাঁটাচলা নয়, নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, ওজন, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু রক্তপরীক্ষা করানো যেতে পারে।

কলকাতার ডেসুন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অন্বিত ভট্টাচার্যের মতে, দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা জানতে প্রয়োজন অনুযায়ী লিপিড প্রোফাইল, ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা এইচবিএ১সি পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে কোন পরীক্ষা কত ঘন ঘন প্রয়োজন, তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক করা উচিত।

শুধু পরীক্ষা করালেই হবে না, কারণ রক্তপরীক্ষা স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষতি ঠেকানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা। কাজের ফাঁকে নিয়মিত চেয়ার থেকে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা, দিনের একটি অংশ হাঁটার জন্য রাখা এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করা জরুরি।

অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা বারবার প্রস্রাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে শুধু রুটিন পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনে রাখুন, ডেস্কে বসে কাজ করলেই হার্ট অ্যাটাক বা ডায়াবিটিস হবেই এমন নয়। তবে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা একটি পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি। তাই নিয়মিত নড়াচড়া, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই চারটি বিষয়েই নজর রাখা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *