ইরান চুক্তি নিয়ে এখনও সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান চুক্তির শর্তে এখনও সন্তুষ্ট নন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে খুবই আগ্রহী, তবে এখন পর্যন্ত তারা সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।” একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “চুক্তি না হলে ওয়াশিংটন আবারও হামলা চালাতে প্রস্তুত।” খবর বিবিসির।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি খসড়া চুক্তির তথাকথিত বিবরণ প্রকাশের পরই ট্রাম্প থেকে এই মন্তব্য এলো। খসড়ায় বলা হয়, চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে। তবে, হোয়াইট হাউস ওই নথিকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষদিকে উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, ফলে দ্রুত চুক্তি ঘোষণার জল্পনা তৈরি হয়। কিন্তু, পরে তেহরান জানায়, চুক্তি ‘আসন্ন নয়’ এবং ট্রাম্প বলেন, তিনি তার আলোচকদের ‘তাড়াহুড়া না করতে’ নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (২৭ মে) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “তারা শুধু একটি চুক্তি করতে চায়—আমার মনে হয় তাদের আর কোনও বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান খুবই আগ্রহী। তারা একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা সেখানে পৌঁছাতে পারেনি এবং আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। হয় চুক্তি হবে, নতুবা আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “আলোচনায় কিছু অগ্রগতি ও আগ্রহ দেখা গেছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনে বোঝা যাবে আরও অগ্রগতি সম্ভব কি না।”

যদিও ট্রাম্প ও রুবিও উভয়েই আলোচনায় আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে কোনও কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে যা তারা প্রকাশ করেননি।

বুধবার ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথাকথিত খসড়া চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প সরাসরি কিছু বলেননি। সেখানে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নেবে। এর বিনিময়ে ইরান এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে এবং জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমান যৌথভাবে পরিচালনা করবে।

তবে, ওই প্রতিবেদনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের কোনও উল্লেখ ছিল না। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেউ নেবে না। এটি অবিলম্বে খুলে দেওয়া হবে।”

এছাড়া তিনি অস্বীকার করেন যে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা ভাবছে বা রাশিয়া ও চীনকে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *