ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাংবাদিক আমাল খলিল সম্পর্কে যা জানা গেলো

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক আমাল খলিল (৪২)। বুধবার আল-তাইরি শহরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় তিনি নিহত হন। দক্ষিণ লেবাননের মাটি ও মানুষের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই সাহসী সাংবাদিক।

ঘটনার দিন আমাল খলিল ও ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার জেইনাব ফারাজ একটি এলাকায় হামলার সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলেন। প্রথমে তাদের বহনকারী গাড়ির সামনে একটি হামলা চালানো হয়, যার ফলে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কাছেই একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ওই বাড়িটিতেই হামলা চালানো হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারীরা জেইনাব ফারাজকে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় সরিয়ে আনতে পারলেও আমাল খলিলের কাছে পৌঁছানোর আগেই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আমালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমালের ভাই আলি খলিল অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাল প্রতিটি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। লেবাননের প্রতিটি বাড়ি তাকে হারিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি ধূলিকণা, এর মিষ্টি বাতাস, উপত্যকা, পাহাড় এবং পুরোনো ঘরবাড়ি; সবকিছুতেই আমালের ছায়া ছিল।’

Amal Khalil Social Media- Bangla Tribune

সহকর্মী ও পরিচিতদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার ও নির্ভীক এক মানুষ। লেবানিজ অনুসন্ধানী সাংবাদিক হুসেইন চাবানে বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকতায় প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্ত্বেও তিনি অসম্ভব উদার ছিলেন। তিনি কখনও তথ্য বা পরিচিতি শেয়ার করতে দ্বিধা করতেন না। দক্ষিণাঞ্চলের সবকিছু তার হাতের তালুর মতো চেনা ছিল।’

১৯৮৪ সালে সাইদা জেলার আল-বাইসারিয়াতে জন্ম নেওয়া আমাল যুদ্ধ আর দখলদারত্বের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। ২০০৬ সালে ‘আল-আখবার’ পত্রিকায় যোগ দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর তিনি সাংবাদিকতা করেছেন। যুদ্ধের সময় বাস্তুচ্যুত মানুষ, ইসরায়েলি দখলদারত্ব এবং সামাজিক ও দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি। আমাল স্পষ্টভাবেই বলতেন, ‘দখলদারত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কোনও বিকল্প নেই।’

চলচ্চিত্র নির্মাতা বাশির আবু জেইদ বলেন, ‘আমালকে ইসরায়েল হত্যা করেছে, কারণ তিনি কেবল সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রতিরোধের সাংবাদিক।’

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই হত্যাকাণ্ডকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অপরাধীদের আন্তর্জাতিকভাবে বিচারের মুখোমুখি করতে লেবানন কোনও প্রচেষ্টা বাদ রাখবে না।

ইসরায়েলি বাহিনীর সীমাবদ্ধতা বা নিষেধাজ্ঞা কখনও মেনে নেননি আমাল। তার সহকর্মীরা জানান, তিনি সবসময় ভয়কে জয় করে মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। তার মৃত্যুতে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ করা কঠিন বলে মনে করেন তারা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *